মেহেরপুরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন, রায় শুনে জ্ঞান হারালেন ইউপি সদস্য
পরে পুলিশ ভ্যানে করে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মেহেরপুরের পিরোজপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মো. কলিম উদ্দিন ওরফে কালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রোববার মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি কলিম উদ্দিন কালু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ প্রহরায় তাকে এজলাস থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে পুলিশ ভ্যানে করে তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিরোজপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই রাতে কলিম উদ্দিন তার বন্ধু রিপনকে চা খাওয়ানোর কথা বলে গ্রামের একটি দোকানে বসিয়ে রাখেন। পরে পাঁচ মিনিটের কথা বলে রিপনের বাড়িতে যান। সেখানে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
কলিম উদ্দিন দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় রিপন মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরে যান। এ সময় তিনি তার স্ত্রীকে কলিম উদ্দিন ধর্ষণ করছেন দেখতে পান। রিপনের উপস্থিতি টের পেয়ে কলিম উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার তিন দিন পর ২১ ডিসেম্বর ধর্ষণের শিকার নারীর মা বাদী হয়ে সদর থানায় কলিম উদ্দিনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার তদন্তে ধর্ষণের শিকার নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা, জবানবন্দি ও ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলার আসামি সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বিভিন্নভাবে চাপ ও প্রলোভন দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে বাদীকে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে আপসের চেষ্টা করা হয়েছিল।
পিপি মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অপরাধী প্রভাবশালী বা ক্ষমতাশালী হলেও আইনের চোখে সবাই সমানরায়টি সেই বার্তাই দিয়েছে।”
রায়ে জরিমানার ৫ লাখ টাকা আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে আদায় করে আদালতে জমা দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান পিপি।
