ব্যর্থ হলে কারোরই অস্তিত্ব থাকবে না: সারজিস আলম
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পক্ষে ময়মনসিংহে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ নিহত ৫৫ জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, “খুনি হাসিনা ও তার দোসররা সবসময় চেষ্টা করছে, আমরা যেন ব্যর্থ হই। আর আমরা ব্যর্থ হলে কারোরই অস্তিত্ব থাকবে না।”
শনিবার সকালে ময়মনসিংহ নগরে তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত ৫৫ জনের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রত্যেক শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে সবসময় থাকবে বলে আশ্বাস দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৩ জন নিহত হয়েছেন। এখনো হাসপাতালে আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছেন অনেকে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
প্রাথমিকভাবে ৫৫ জনের পরিবারের হাতে অনুদানের চেক প্রদান করা হলো। চেক পেয়ে আপ্লুত শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
একমাত্র সন্তানের পড়াশোনার জন্য ঢাকায় যান নগরীর পুরোহিত পাড়ার সামিরা জাহান মনি। থাকতেন রাজধানীর আজিমপুরে। তার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহিনকে ভর্তি করিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ৪ অগাস্ট আজিমপুরে ছাত্র-জনতার মিছিলে মাহিনের মাথায় দুটি গুলি লাগে। ওইদিন রাত ১২টায় হাসপাতালে মারা যান মাহিন। পরে সবকিছু গুটিয়ে ময়মনসিংহ ফিরে আসেন সামিরা।
অনুদানের চেক পেয়ে কান্না ভেজা চোখে সামিরা বলেন, “একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে আজ আমি একাকিত্ব জীবন যাপন করছি। সন্তানের রক্তে যে দেশ পেয়েছি সেটা ভালো চলুক, এর চেয়ে আর চাওয়ার কিছু নেই।”
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আহত এবং নিহতদের সঠিক তথ্য সংগ্রহে কাজ করার কথা বলেছেন সারজিস আলম।
সারজিস আলম বলেন, “শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করার লক্ষে এ ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। আপনারা সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। কারণ হাসিনা সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মাত্র দুই কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেল খাটিয়েছেন।
“আমাদের ফাউন্ডেশনের হিসাব সঠিক না রাখলে ২০ বছর পরেও যদি শেখ হাসিনার দোসররা ক্ষমতায় আসে তাহলে এই কারণে আমাদের জেলে যেতে হবে। তাই এটিকে একটি শক্তিশালী স্বচ্ছ ফাউন্ডেশন করতে চাই।”
তিনি বলেন, “প্রশাসনের মধ্যে যারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বর্তমান প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। আজকে যারা পদ পেয়েছেন, তা আমাদের আন্দোলনের জন্য।
“আপনারা যদি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন তাহলে আপনাদের পদে থাকার প্রয়োজন নেই। আপনাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেছেন, তাদের বিচার আপনাদেরই করতে হবে। শকুনদের খারাপ নজর ও চক্রান্ত শেষ হয়নি।
“আমরা যদি বেঁচে থাকি তাহলে আমাদের জীবনের বিনিময়ে হলেও শহীদ পরিবারের পাশে থাকব; তাদের শরীরে বিন্দু পরিমাণ আঁচ লাগতে দেন না।”
এই ফাউন্ডেশনের যাত্রাকে স্বাগত জানিয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী বলেন, “শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয় শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করা হবে। আহতদেরও সহযোগিতা করা হবে। আমরা সেই লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।”
