নিজের হাতে তৈরি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষকের ‘রাজকীয়’ বিদায়
চরফলকন ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার এম হাবিব উল্যাহ বাহারকে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
নিজের হাতে গড়েছিলেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেখানে টানা সাড়ে ৪০ বছর শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান বিতরণ করেছেন। কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মী-ছাত্র-অভিভাবকরা মিলে তাকে ‘রাজকীয়’ বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার এম হাবিব উল্যাহ বাহারের বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ১৯৮৪ সালে তিনি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে ফুল ও ক্রেস্টসহ নানা উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে ফুলে ফুলে সাজানো একটি বিশেষ গাড়িতে করে তাকে পৌঁছে দেওয়া হয় নিজের বাড়িতে। তাকে বিদায় দিতে গিয়ে সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
চরফলকন ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শওকত হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান, হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ জায়েদ হোসাইন আল ফারুকী, সানম্যান গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসফিক মান্নান, হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সবুজ, জামায়াতে ইসলামীর কমলনগর উপজেলা আমির আবুল খায়ের, চরফলকন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম।
বিদায় সংবর্ধনায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে এম হাবিব উল্যাহ বাহার বলেন, “মাদ্রাসাটি আমি নিজ হাতে গড়ে তুলেছি। আজ আমার সেই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাচ্ছি। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি যে মায়া জমেছে, তা কখনও শেষ হবে না।”
তিনি প্রতিষ্ঠানটির মঙ্গল এবং এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উন্নত জীবন কামনা করেন।
