২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মিঠামইন: যুবলীগ নেতার জামিনে বাদীর ‘অনাপত্তি’ নিয়ে বিএনপিতে ক্ষোভ

“তাকে ঘটনাস্থল বা আশপাশে আমি দেখিনি; অন্য কেউ দেখেনি। তার জড়িত থাকার কথা কোথাও শোনাও যায়নি। তাই তার জামিনে ‘আপত্তি নেই’ বলেছি।”

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Feb 2025, 09:21 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:50 AM

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে যুবলীগ নেতার জামিনে বাদীর ‘আপত্তি না থাকা’ নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ‘ক্ষোভ ও নিন্দা’ জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, হামলায় জড়িত থাকার পরও যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের জামিন আবেদনে সহায়তা করা ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’। এভাবে টাকার বিনিময়ে ‘মামলা বাণিজ্যের’ ফলে দলের দুর্নাম হচ্ছে।

মিঠামইন বিএনপি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে গত ৯ সেপ্টেম্বর একটি মামলা হয়। মিঠামইন থানায় মামলাটি করেন উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি লোকমান হোসেন।

ওই মামলায় গত বুধবার মিঠামইন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর মিঠামইন থানার ওসি শফিউল আলম দাবি করেন, “হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে ধরা হয়েছে।”

কিন্তু বাদী লোকমান হোসেন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করে বলেন, আনোয়ার হোসেন একজন ‘ভালো মানুষ’; তিনি হামলায় জড়িত নন। মামলায় জামিন বা খালাস পেলে তার কোনো আপত্তি নেই। 

গত বৃহস্পতিবার আদালতে জামিন আবেদন করেন আনোয়ার হোসেন। ওই আবেদনেও বাদী আদালতকে বলেন, আনোয়ার হোসেন  জামিন পেলে তার ‘কোনো আপত্তি নেই’। যদিও আদালত সেই জামিন আবেদন মঞ্জুর করেনি। 

সেদিন আসামি পক্ষে জামিন শুনানি করেন মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন রুবেল।

আসামি গ্রেপ্তারের পর বাদীর অ্যাফিডেভিট ও জামিনের আবেদনে ‘সুপারিশ’ করার ঘটনায় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা ক্ষোভ জানিয়েছেন। 

উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রবিউল আলম শ্যামল মনে করেন, “এভাবে টাকার বিনিময়ে ‘মামলা বাণিজ্যের’ মাধ্যমে দলের মারাত্মক দুর্নাম হচ্ছে। এসব যারা করছে, তারা পতিত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চাচ্ছে।”

উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য ও গোপদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক বাচ্চু বলেন, “এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে আসামির কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে জামিনে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এর ফলে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মক ক্ষুণ্ন হয়েছে।”  

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব এরশাদুল হক বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও বিএনপি অফিসে ভাঙচুরের মামলায় আসামিদের পক্ষে জামিন চাওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনা দলের তৃণমূলের মনোবল দুর্বল করে দেবে।”

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মুহিন বলেন, “অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা বাণিজ্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এর বিচার দাবি করছি।” 

এসব অভিযোগের ব্যাপারে বামী লোকমান হোসেনের ভাষ্য, “পুলিশ যেটাই সন্দেহ করুক, আমি জানি আনোয়ার হোসেন একজন ভালো মানুষ। 

“তাকে ঘটনাস্থল বা আশপাশে আমি দেখি নাই, অন্য কেউ দেখে নাই। এমনকি তার জড়িত থাকার কথা কোথাও শোনাও যায়নি। তাই তার জামিনে আপত্তি নেই বলেছি।”

আইনজীবী জসিম উদ্দিন রুবেল বলেন, “আসামি জড়িত ছিলেন না জেনেই পেশাগত নৈতিকতার জায়গা থেকে জামিন শুনানিতে অংশ নিয়েছি।”