কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, ১১-দলীয় জোটকে মাঠ ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে রাজনৈতিক সমাবেশের প্রচারণায় আপত্তি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। মাঠটি রাজনীতিমুক্ত রাখার দাবিতে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর করেছেন তারা।
সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি করা হয় বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম।
মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের হাতে ‘স্কুল চত্বরে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড ছিল।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাঠটি রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলকে সেখানে কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। এ দাবিতে তারা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
আগামী ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় জোটের ব্যানারে ঢাকা থেকে লংমার্চ বের হওয়ার কথা রয়েছে। গোপালগঞ্জ, খুলনা ও যশোর হয়ে লংমার্চটি কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে। সেখানে সমাপনী সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জোটটি।
এ জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান ফটকের দুই পাশেও বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সেগুলোতে আগামী শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে মাঠে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়নি। এবার স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই মাঠ ব্যবহারের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বিদ্যালয়ের ১৯৮২-৮৩ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী সাহাজুল আলম বলেন, এতদিন স্কুল মাঠে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে দেখেননি তিনি। এখানে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হলেও মাঠটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, “স্কুল কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই বড় একটি কর্মসূচির জন্য মাঠ ব্যবহারের প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা মোটেও ভালো হয়নি। এতদিন যা হয়নি, এখনো তা হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে মাঠ রাজনীতিমুক্ত রাখতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে তার কোনো দ্বিমত নেই। জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চের সমাবেশের জন্য স্কুল মাঠ ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। আয়োজকেরা চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে কর্মসূচি করতে পারেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও ১১-দলীয় জোটের জেলা সমন্বয়ক এনামুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, স্কুল মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে এনামুল হক আবেদন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই মাঠ ব্যবহারের প্রচারণা চালানো হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক।
