০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজারে দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক কর্মকর্তারা, গ্রাহকদের বিক্ষোভ

এতে প্রায় তিন ঘণ্টা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2026, 11:37 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখায় গ্রাহকদের জমা করা প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

শনিবার দুপুরে পালংখালী স্টেশন চত্বরে মানববন্ধন শেষে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েকশ গ্রাহক। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ থাকে। 

পরে বিকাল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। 

গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পালংখালী বাজারের ওই এজেন্ট শাখায় টাকা জমা রাখলেও প্রয়োজনের সময় তা তুলতে পারছেন না তারা। পরে ব্যাংকের হিসাব ও নিজেদের কাছে থাকা জমার রসিদ যাচাই করে অনেকেই জমা করা টাকার সঙ্গে হিসাবের অমিল দেখতে পান।

মানববন্ধন ও অবরোধ চলাকালে ‘প্রতারকের বিচার চাই’, ‘আমাদের টাকা ফেরত চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন গ্রাহকেরা। এ সময় কয়েকজন গ্রাহক কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মামলার বাদী ও পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ বলেন, তার হিসাবে ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জমা ছিল। কিন্তু টাকা তুলতে গিয়ে তিনি হিসাবের সঙ্গে জমার অমিল দেখতে পান।

“আমরা আমাদের টাকা ফেরত চাই এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” 

গ্রাহক খতিজাতুল কোবরা বলেন, ওই এজেন্ট শাখায় তার ১০ লাখ টাকা জমা ছিল। প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে তিনি সমস্যায় পড়েন।

“পরে জানতে পারি, আমাদের মত আরও অনেক গ্রাহকের টাকাও আটকে আছে। আমরা আমাদের জমা করা টাকা ফেরত চাই।”

আরেক গ্রাহক জাফর আলম বলেন, মেয়ের বিয়ের জন্য তিনি সাড়ে চার লাখ টাকা জমিয়েছিলেন।

“এখন সেই টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেব, জানি না। আমরা দ্রুত আমাদের টাকা ফেরত চাই।”

মানববন্ধনের একপর্যায়ে মাংস ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তার দাবি, ওই এজেন্ট শাখায় তার ৯ লাখ টাকা জমা রয়েছে।

রাশেদা বেগম নামে এক গ্রাহক বলেন, তার প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। এখন সেই টাকা না পাওয়ায় তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

গ্রাহকরা বলছেন, মামলায় ২১ জন গ্রাহকের ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হলেও প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তাদের দাবি, ওই এজেন্ট শাখায় আরও বহু গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আটকে থাকতে পারে।

তারা নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রত্যেক গ্রাহকের আমানত ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

মামলায় নয়জন আসামি

পুলিশ জানিয়েছে, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পালংখালী এজেন্ট শাখার এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন, ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম, ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদসহ নয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

মামলায় গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ এবং হিসাবের নথি ও জমার রসিদে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ২১ গ্রাহকের হিসাবে মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা জমা ছিল। মামলার বাদী আনোয়ার ফয়সাল আরিফের অভিযোগের ভিত্তিতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার স্থানীয়রা এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার রাতে বলেন, ১৮ অগাস্ট একটি মামলা হয়। তবে এর আগেই ১৭ অগাস্ট বিকালে দুজনকে আটক করা হয়।

তদন্তে প্রকৃত ক্ষতি জানা যাবে

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, পালংখালী বাজারের আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন।

“বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে অবগত করা হয়েছে। গ্রাহকরা তাদের আমানত ফেরত পান, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে গ্রাহকদের কত টাকা আত্মসাৎ বা অনিয়মের শিকার হয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন উখিয়ার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার।