শাকসু: ছবি আপলোডকে ‘নির্বাচনি জটিলতা’ হিসেবে দেখছেন প্রার্থীরা
কমিশন ৬ জানুয়ারিতে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে শিক্ষার্থীদের ১৩ জানুয়ারির মধ্যে ছবি আপলোড আবশ্যক বলে জানিয়েছেন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনে ভোটারদের শনাক্ত করার সুবিধার্থে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে ওয়েবসাইটে ছবি আপলোড আবশ্যক বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
তবে নির্বাচনের ১০ থেকে ১২ দিন আগে এ প্রক্রিয়াকে ‘নির্বাচনি জটিলতা’ হিসেবে দেখছেন প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া নির্বাচনের জন্য ছবি আপলোড দিতে হবে, এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী এখনো জানেন না।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের টেকনিক্যাল কমিটির তথ্যমতে, ১৭ ডিসেম্বর ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের ছবি আপলোডের জন্য বলা হয়। কিন্তু ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১৫ শতাংশ ভোটার ছবি আপলোড দিয়েছে। তাই কমিশন ৬ জানুয়ারিতে ফের আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে, যেখানে শিক্ষার্থীদের ১৩ জানুয়ারির মধ্যে ছবি আপলোড আবশ্যক বলে জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে এ বিজ্ঞপ্তিতে ছবি আপলোডের জন্য সব বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্র উপদেষ্টাদের কাছে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
ছবি আপলোডের জন্য ফের নোটিশ দেওয়ার পর টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান অধ্যাপক রেজোয়ান আহমাদ বলেন, “এখন অবধি (১০ জানুয়ারি সকাল পর্যন্ত) মোট দুই হাজার ১২৭ জন শিক্ষার্থী তাদের ছবি আপলোড করেছেন। শিক্ষার্থীদের চাওয়া ছিল ছবিসহ ভোটার তালিকা। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর ছবি ডেটাবেজে নেই। এজন্য আমরা প্রত্যেক বিভাগে ও ছাত্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে যাতে তারা ছবি সংযোজনে সহযোগিতা করেন।”
এই মুহূর্তে ছবি আপলোড দেওয়াকে ‘নির্বাচনি জটিলতা’ আখ্যা দিয়ে জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, “শুরুতে যখন ছবি আপলোড করার কথা বলছিল তখন আমরা এটার প্রতিবাদ করছিলাম। প্রতিবাদ করার একটাই কারণ, ভোটগ্রহণ পদ্ধতি যত সহজ করা যায় তত বেশি ভোটারের আগ্রহ বাড়বে। কিন্তু তারা ক্রমাগত ভোটগ্রহণ পদ্ধতি জটিল করে তোলার চেষ্টা করছে, যাতে ভোটগ্রহণ কম হয় এবং নির্বাচন পেছানো যায়।”
এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনোভাব বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা যখন নির্বাচনি ক্যাম্পেইনে যাচ্ছি, দেখতেছি শিক্ষার্থীরা একদমই আগ্রহী না। এই বিষয়টির সঙ্গে তারা ইউজ টু না। তারা ছবি আপলোড করতে গিয়ে অনেক ধরনের সমস্যায় পড়ছে। মানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর তারপর জন্ম তারিখ ঠিক দিলে ভুল আসতেছে। তো একটা শিক্ষার্থী বারবার চেক করবে কখন? কখন হবে, কখন হবে না- মানে এইটা একটা ভোগান্তি না তো। এই ভোগান্তিতে তারা পড়তেছে। তারা আসলে একটুও সন্তুষ্ট না এই বিষয়টা নিয়ে।
“তবে আমরা তাদের (নির্বাচন কমিশনকে) বিশ্বাস করতে চাই যে, তারা এটা নির্বাচন পেছানোর বা নির্বাচন বাতিল করার টুল হিসেবে এটাকে ব্যবহার করছে না। এটুকু বিশ্বাস আপাতত তাদের উপর রাখতে এবং আশা করি তারা এই বিশ্বাস ভাঙবে না।”
পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হোসাইন আহমাদ বলেন, “নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ছবি ও জন্ম তারিখ সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
“ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। সবার আইডি কার্ডে ছবি আছে। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ছবি এবং জন্ম তারিখ নিয়ে এই হঠাৎ তোড়জোড় শিক্ষার্থীদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধছে। এটি কি কেবলই প্রশাসনিক অদক্ষতা, নাকি নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ? সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”
ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, “প্রার্থী হিসেবে মনে করি, নির্বাচন কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, উপযুক্ত সময়ের মধ্যে তারা বিষয়টি সম্পূর্ণ করে ফেলবে। যদি এটা উনারা না করেন, তাহলে আমরা এটাকে শাকসু পেছানোর ষড়যন্ত্রের একটা অংশ হিসেবে মনে করব।”
শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, “অলরেডি আমরা প্রার্থীদের সঙ্গে বলছিলাম যদি ওই রকম (ছবি আপলোডে) কোনো সমস্যা হয়, তাহলে টেকনিক্যাল কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। তবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নাই। ভোট পেছানোর সঙ্গে, নির্বাচন পেছানোর সঙ্গে এগুলোর (ছবি আপলোডের) কোনো সম্পর্ক নেই। শাকসু নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি একেবারে ‘আপ টু দ্য মার্ক’ আছে। কাজেই অসুবিধা হবে না আরকি।”
