ধস্তাধস্তির সময় হাসুয়ার আঘাতে প্রাণ গেল ‘মাদকাসক্তের’, মা গ্রেপ্তার
“স্ত্রীকে মারধর করছিল। আমি বাধা দিতে গেলে সে আমাকে কোপাতে আসে। কিন্তু ধস্তাধস্তির সময় হাসুয়া তার কপাল ও গলায় লেগে যায়।”
সাতক্ষীরার তালায় হাসুয়ার আঘাতে মারা গেছেন এক ভ্যানচালক। এ ঘটনায় তার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তাকে ‘মাদকাসক্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবারের দাবি, টাকার জন্য স্ত্রী ও মাকে মারধরের সময় ধস্তাধস্তিতে নিজের শরীরেই হাসুয়ার আঘাত লাগে ওই যুবকের।
সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আটারই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান তালা থানার ওসি মাইনউদ্দিন।
নিহত মো. হাবিবুর মোড়ল (৩০) ওই গ্রামের আব্দুল্লাহ মোড়লের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী মাদকাসক্ত। প্রায়ই মাদক সেবন করে আমাকে ও শাশুড়িকে মারধর করত। মোটরসাইকেল কেনার জন্য চাপ দিত।
“গতকাল (সোমবার) রাতে সে আবারও টাকা চেয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমি বাধা দিতে গেলে সে আমাকে মারধর করে। মারধরে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। পরে জ্ঞান ফিরে দেখি, সে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”
হাবিবুরের মা পারুল বেগম বলেন, “ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পরিবারে অশান্তি করত। স্ত্রীকে মারধর করছিল। আমি বাধা দিতে গেলে সে আমাকে কোপাতে আসে। কিন্তু ধস্তাধস্তির সময় হাসুয়া তার কপাল ও গলায় লেগে যায়।”
প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ বলেন, হাবিবুর প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য মা-বৌর সঙ্গে ঝগড়া করত, বাড়িতে ভাঙচুর করত। সোমবার রাতেও তিনজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, একপর্যায়ে যা মারাত্মক রূপ নেয়।
তালা থানার ওসি মাইনউদ্দিন বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাবিবুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নিয়ে যান তার মা ও স্ত্রী। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে তালা থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পরে তার মা পারুল বেগমকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি।
