পুশ-ইন: ময়মনসিংহ-শেরপুর সীমান্তে কড়াকড়ি, বিজিবিকে সহায়তায় ভিডিপি-আনসার
“সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকানো বিজিবির পক্ষে একা সম্ভব না। এ জন্য সীমান্ত এলাকার স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তা প্রয়োজন।”
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া এবং শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
এ বাহিনীকে সহায়তা করতে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ও আনসার সদস্য মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনসাধারণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা চেয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকালে ময়মনসিংহ-৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বুধবার বিকালে ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সীমান্তে পুশ-ইন প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই সভায় সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তে অবৈধ পুশ-ইন ঠেকাতে সমাজের সব শ্রেণী পেশার মানুষ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে একটি মতবিবিনিময় সভা করেছি। সভায় পুশ-ইন ঠেকাতে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
সভায় ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসাইন, বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচ কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান মানিক, যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি জিন্নত আলীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও মোশারফ হোসাইন বলেন, “সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবির পক্ষে একা সম্ভব না। এ জন্য সীমান্ত এলাকার স্থানীয় জনগণ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সহায়তা প্রয়োজন।
“তাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং বিজিবিকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিজিবির পক্ষ থেকে আনসার সদস্য চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই তা মোয়াতেন করা হবে এবং তারা সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।”
এ প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আজিম বায়োজিদ বলেন, “সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
“পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতির খোঁজখবর রেখে বিজিবিকে সহযোগিতা করতে সীমান্তবর্তী জনসাধারণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।”
