কুমিল্লায় যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৭ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
শামীমের বাসা থেকে তিনটি স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান), মোট ৬০টি শটগানের গুলি, মেশিনগানের ১৮টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ অভিযানে অস্ত্র, বিপুল গুলি ও অপরাধমূলক সরঞ্জামসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে সেনাবাহিনীর ২৩ বীর ও র্যাব-১১ (সিপিসি-২) এর বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছেন র্যাবের অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম।
গ্রেপ্তার মো. নজমুল ইসলাম শামীম জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ডের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পূর্বে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, শামীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, দাঙ্গা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারাসহ কমপক্ষে সাতটি মামলা রয়েছে।
সেনাবাহিনীর কুমিল্লা সদর ক্যাম্প থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানকালে শামীমের বাসা থেকে তিনটি স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র (পাইপগান), মোট ৬০টি শটগানের গুলি, মেশিনগানের ১৮টি গোলাবারুদ, পিস্তলের একটি গুলি, একটি রিভলভার বা এয়ারগানের গুলি, ছুরি, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ মোট ১০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা হয় দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, মানিব্যাগ, এটিএম কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযানের শুরুতে শামীমের নিজ বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত একাধিক গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে র্যাব-১১ (সিপিসি-২) আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জিপিএস ও লোকেশন ট্র্যাকিং পরিচালনা করে শামীমের অবস্থান শনাক্ত করে এবং তাকে আটক করে।
র্যাব অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, র্যাবের তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় শামীমকে আটক করা হয়। সেনাবাহিনী তাকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।
