ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া যুবককে ‘মারধর’, সিলেটে পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার
নগরের জিতু মিয়ার পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান খোলা নিয়ে ওই যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটে।
সিলেটে জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক যুবককে মারধরের অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই যুবক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা।
শনিবার ভোরে নগরের জিতু মিয়ার পয়েন্টে চায়ের দোকান খোলা নিয়ে ওই যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটে।
শনিবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, একটি অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জসিমকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
পাশাপাশি এ ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে; যাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মারধরের শিকার যুবক ইসমাইল উদ্দিন (২৪) নগরীর খুলিয়াটুলা এলাকার মো. নরু মিয়ার ছেলে। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, “ইসমাইল উদ্দিন জুলাই-অগাস্টের আগে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আন্দোলনে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে উঠলে জীবন-জীবিকার তাগিদে নগরের জিতু মিয়ার পয়েন্টে ভাসমান একটি চায়ের দোকান করেন।
“প্রতিদিনের মত শনিবার ভোরে সেখানে দোকান খুলে বসলে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জসিমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তাকে গিয়ে দোকান বন্ধ করতে বলেন। এ সময় এসআই জসিম এসে ‘এত সকালে দোকান খোলা কেন’ জানতে চেয়ে তাকে ভ্যানগাড়িসহ তুলে নেওয়ার হুমকি দেন।”
“প্রতিউত্তরে ওই যুবক বলেন, ‘আমি একজন গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা। আন্দোলনে আহত হওয়ার পর দীর্ঘসময় বসে থাকতে পারি না, তাই এই দোকান দিয়েছি।’ ইসমাইল জুলাইযোদ্ধার পরিচয় দেয়ার পরপরই এসআই জসিম উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘তুই যোদ্ধা! তোরা তো পুলিশ মারছিস, ফাঁড়ি জ্বালিয়েছিস’ বলে কিল, ঘুসি, থাপ্পড় মারতে মারতে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন।”
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবলের হস্তক্ষেপে এসআই জসিম ও অন্য পুলিশ সদস্য তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত ইসমাইল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “ভোরে দোকান খুলে বসলে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জসিমসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা দোকান বন্ধ করতে বলেন। পরিচয় দিলে, জসিম উত্তেজিত হয়ে মারধর শুরু করেন।”
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় বলে জানান তিনি।
