কেন্দ্রে পানি নিয়েই সিলেটে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, অনুপস্থিত ৭২৩
“পরীক্ষা আরও পিছিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হত। পরীক্ষা হওয়াতে এ সমস্যায় আর পড়তে হবে না।”
বন্যার কারণে সিলেটে স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পানি নিয়েই শেষ হয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের প্রথম দিনের পরীক্ষা। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল ৭২৩ পরীক্ষার্থী।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এইচএসসির আইসিটি বিষয়ের এই পরীক্ষা শুরু হয়; পানি থাকার কারণে অনেক কেন্দ্রে বদল করা হলেও সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে পৌঁছান।
এদিন সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি ডিগ্রি কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজটির প্রধান প্রবেশদ্বার, রাস্তা ও আঙিনায় রয়েছে বন্যার পানি। শিক্ষার্থীদের প্রবেশের জন্য রাস্তার উপর ফেলা বালুর বস্তা দিয়েই কলেজে প্রবেশ করেন পরীক্ষার্থীরা।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কলেজের প্রবেশ পথে পানি থাকলেও পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রাস্তায় বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে পানি রয়েছে। তবে সেগুলোতে পরীক্ষার হল রাখা হয়নি।’
আরও পড়ুন:
এছাড়া বালাগঞ্জ উপজেলা সদরে ডিএন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পানি থাকায় এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছেন বালাগঞ্জ সরকারি কলেজে।
সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল বলেন, “কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলমান পরীক্ষা আরও পিছিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হত। পরীক্ষা হওয়াতে এ সমস্যায় আর পড়তে হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আইসিটি বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল ভালো। এই বিষয়ে বোর্ডের ৭০ হাজার ৫৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৬৯ হাজার ৮৫৬ জন। আর ৭২৩ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না: যা মোট শিক্ষার্থীর ১ দশমিক ২ ভাগ।
প্রথমদিনে অনুপস্থিতির মধ্যে আছে সিলেট জেলার ২৮৬, হবিগঞ্জ জেলার ১৪৬, মৌলভীবাজার জেলার ১৩৫ ও সুনামগঞ্জ জেলার ১৫৬ জন পরীক্ষার্থী।
সিলেট বোর্ডের অধীনে চার জেলায় ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২ হাজার ৭৯৫ পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছেন।মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৩৩ হাজার ৫৯০ জন এবং ছাত্রী ৪৯ হাজার ২০৫ জন।
এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৫ হাজার ৬২০ জন, সুনামগঞ্জে ১৫ হাজার ৬৬৪ জন, মৌলভীবাজারে ১৬ হাজার ৫০৮ জন ও হবিগঞ্জে ১৫ হাজার তিনজন পরীক্ষার্থী আছেন।
বিভাগের মোট ৮৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে ৩৩টি, সুনামগঞ্জে ২২টি, মৌলভীবাজারে ১৪টি ও হবিগঞ্জে ১৮টি।
আরও পড়ুন:
গত ২৯ মে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগে বন্যা দেখা দেয়। ৮ জুনের পর বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।
পরে ১৭ জুন থেকে ফের টানা বৃষ্টিতে সিলেটে দ্বিতীয় দফায় বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়। এতে সিলেট নগরীর ২৪টি ওয়ার্ডসহ ১৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ১৩টি উপজেলা কমবেশি প্লাবিত হয়। বন্যা পানি এখনও পুরোপুরো নামেনি।
এ অবস্থায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট বিভাগের এইচএসসি, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছিল।
এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা বন্যা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার জেলার ৯৫টি ইউনিয়নের এক হাজার ৬৪টি গ্রাম প্লাবিত আছে। এতে পানিবন্দি হয়ে আছেন পাঁচ লাখ ৪০হাজার ৮২০ জন। এ ছাড়া ২১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন নয় হাজার ৩৬০ মানুষ।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ৪০ সেন্টিমিটারে।
আর জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে একই সময়ে ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।সোমবার সন্ধ্যায় ছিল ৪৯ সেন্টিমিটারে।
কুশিয়ারা ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে সোমবার সন্ধ্যায় ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।
আরও পড়ুন:
