ভারি বৃষ্টিতে নোয়াখালী শহরে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ
“মাইজদী হাউজিংয়ের প্রতিটি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড় হাউজিং বালুর মাঠসহ সবগুলো বাসাবাড়ির সামনে পানি জমে আছে।”
নোয়াখালীতে ভারি বৃষ্টিপাতে মাইজদী শহরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে।
জেলা আওহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলা শহর মাইজদীতে ২৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে; যা এ বছরে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
এরপর সকাল ৯টায় মাইজদীতে ২৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
বৃহস্পতিবার থেকে একটানা বৃষ্টিতে শহরের হাউজিং এস্টেট, মাস্টার পাড়া, খন্দকার পাড়া, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, মধুসূদনপুর, গুপ্তাঙ্গসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পানি উঠে গেছে।
এছাড়া জেলা কারাগার সড়ক, জজকোর্ট-কোর্টবিল্ডিং সংযোগ সড়ক, মাইজদী পাবলিক কলেজ সড়ক, আল ফারু একাডেমি সড়ক, নোয়াখালী সাইন্স অ্যান্ড কমার্স কলেজের সামনের সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে এসব সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহনের চালক ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এছাড়া মাইজদী পৌর বাজার, মাইজদী বাজার, দত্তেরহাট বাজার, সোনাপুরসহ নোয়াখালীর পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।
নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেন এবং খালগুলোতে ময়লা আবর্জনা জমে থাকার কারণে পানি নামতে না পারায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
নোয়াখালী শহরের নাইস গেস্ট হাউসের সত্বাধীকারী মো. শওকত আলী বলেন, “জলাবদ্ধতা নোয়াখালী শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর মূল কারণ হচ্ছে এ শহরটি মূলত ভাতের প্লেটের মতো। চারপাশের তুলনায় শহরটা নিচু হওয়ার কারণে ভারি বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারে না। ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
“এ সংকট মোকাবিলায় শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছাগলমারা খাল, বকশি খাল, ইসলামিয়া খালসহ উত্তরে বেগমগঞ্জের গাবুয়া থেকে দক্ষিণে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আশপাশের সবগুলো সংযোগ খাল দখলমুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে খনন করতে হবে। সেই সঙ্গে নোয়াখালী পৌরসভার ড্রেনগুলো পরিকল্পিতভাবে পানি নামার উপযোগী করে তুলতে হবে।”
এজন্য স্থানীয় লোকজন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা সভা করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।
মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা মাওলা সুমন বলেন, “হাউজিংয়ের প্রতিটি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড় হাউজিং বালুর মাঠসহ সবগুলো বাসাবাড়ির সামনে পানি জমে আছে।”
দ্রুত ড্রেন ও খালগুলো পরিষ্কার করা না হলে সহজে পানি নামবে না বলে জানান তিনি।
শহরের মধুসূদনপুর এলাকার বাসিন্দা হাসিনা চৌধুরী বলেন, “বর্ষার আগেই দুই দিনের বৃষ্টিতে শহরের পথঘাট সব ডুবে গেছে। খাল এবং ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা না হলে সামনে আরো ভয়াবহ অবস্থা অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।”
জেলা আওহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলছেন, শুক্রবার বৃষ্টি আরও কয়েক ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে।
