০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তারেক মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকীতে মায়ের আক্ষেপ, ‘জাদুঘরটি হলো না’

ফরিদপুরের ভাঙ্গা বিশ্বরোড গোলচত্বরের নাম ‘তারেক মাসুদ চত্বর’ করার দাবিও করেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 09:18 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে স্মরণ করেছে তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশন। এ সময় ছেলের স্মৃতিতে একটি জাদুঘর না হওয়ায় আক্ষেপ করেছেন তার মা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার নূরপুর গ্রামে তারেক মাসুদের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে সেখানে স্মরণসভা হয়।

তারেক মাসুদের মা নুরুন্নাহার মাসুদ ছেলের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার মনে বড় কষ্ট। আমি চেয়েছিলাম তারেকের নামে গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর হবে। জাদুঘরটি আমি নিজ হাতে সাজাবো। এটাই আমার একমাত্র চাওয়া-পাওয়া। তার কিছুই হয়নি। সরকারের কাছে আর কিছুই চাই না। আমার তারেক খাইয়া না খাইয়া ছবি তৈরি করেছে।”

স্মরণসভায় তারেক মাসুদ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও ভাঙ্গা সরকারি কাজী মাহবুব উল্লাহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোসায়েদ হোসেন ঢালীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা বেনজীর আহমেদ, কলেজের শিক্ষক মো. সরোয়ার হোসেন, ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আবু বকর, ভাঙ্গা নাগরিক কমিটির সদস্য সুভাষ মণ্ডল এবং তারেক মাসুদের ভাই সাঈদ মাসুদ।

মোসায়েদ হোসেন ঢালী বলেন, “তারেক মাসুদ যা চেয়েছিলেন, তার কোনোটিই আমরা পাইনি।”

তিনি বলেন, বর্তমানে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চার বদলে নানা ধরনের অপসংস্কৃতি জায়গা করে নিয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতারা তারেক মাসুদের চিন্তা ও আদর্শ অনুসরণ করলে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে।

তিনি ভাঙ্গা বিশ্বরোড গোলচত্বরের নাম ‘তারেক মাসুদ চত্বর’ করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, তারেক মাসুদ শুধু চলচ্চিত্র নির্মাতা ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির জন্য কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তার কাজ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

একুশে পদক পাওয়া চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের পরিচালিত ‘মাটির ময়না’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে পরিচিতি এনে দেয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় একটি ভ্রাম্যমাণ গানের দলকে নিয়ে তৈরি করেন ‘মুক্তির গান’। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত ও প্রশংসিত প্রামাণ্যচিত্রটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দলিল হয়ে ওঠে। 

২০১১ সালের ১৩ অগাস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরের জোকা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদসহ পাঁচজন নিহত হন।