২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ৫ ছাত্রী

“ছাদে কাঁচা পাতাযুক্ত আখ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে আখটি ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে ঝলকানি থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়,” বলেন ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা।

ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ৫ ছাত্রী

ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকায় মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পাঁচ ছাত্রী দগ্ধ হওয়ার পর সেখানে রক্ত ও জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 11:50 PM

Updated : 26 Sep 2026, 11:50 PM

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মহিলা মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ হয়েছে পাঁচ ছাত্রী।

শনিবার বিকাল ৫টার দিকে ফতুল্লার কাশিপুর হাজীপাড়া এলাকার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর রাতে তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

দগ্ধরা হল- জিদনী (১৪), লামিয়া (১৩) সুমাইয়া (১৩), আছিয়া (১২) ও আতিয়া (১১)।

ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার বলেন, জিদনী ৮২ শতাংশ দগ্ধ, লামিয়া ৫৫ শতাংশ, আতিয়া ৪৫ শতাংশ, সুমাইয়া ১৩ শতাংশ দগ্ধ ও আছিয়ার শরীরের ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বলছে, শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার চারতলা ভবনের ছাদে খেলতে যায়। তাদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য আখ ছিল। ছাদের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার গেছে। অসাবধানতাবশত আখ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে বিকট শব্দে ঝলকানি ও আগুন ধরে তারা দগ্ধ হতে পারে।

শুরুতে দগ্ধদের নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মোরশেদ উল আলম খান বলেন, “সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের ব্যথানাশক ইনজেকশন, স্যালাইন ও অক্সিজেন দেওয়ার পর ঢাকায় পাঠানো হয়।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফতুল্লা বিসিক ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “ছাদে কাঁচা পাতাযুক্ত আখ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আখটি ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে ঝলকানি থেকে আগুনের সৃষ্টি হয়।”

তিনি বলেন, “ভবনের নিচতলায় থাকা গ্যাসের রাইজারেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের স্পার্কের সময় গ্যাস লিকেজ থেকে সেখানে বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে নিচতলায় তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।”

আগুনে দগ্ধ লামিয়ার মা সাথী বেগম বলেন, “মেয়েকে মাদ্রাসায় রেখে বাসায় ফিরে আসছিলাম। পথে মাদ্রাসার হুজুর ফোন দিয়ে বলল আমার বাচ্চা অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, পুড়ে গেছে।

“আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি ওখানে লোকজন জড়ো হয়ে আছে। স্থানীয়রা সবাই বলাবলি করছিল যে সেখানে ট্রান্সমিটারে আগুন লেগেছে।”

আগুনে দগ্ধ জিদনির মা বলেন, “খবর শুনে দৌড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুনি আমার মেয়েসহ আরও চারজন দগ্ধ হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা ঢাকা মেডিকেলে চলে আসি।”

দগ্ধ আছিয়ার ভাষ্য, “পাঁচজন ছাদে খেলছিলাম। সঙ্গে মরিয়ম নামে একজন খালাম্মা ছিলেন, যিনি আমাদের পড়াতেন। খেলতে খেলতে হঠাৎ করে একটি শব্দ হয় এবং আগুনের তাপ আমাদের গায়ে লাগে।”