নরসিংদীতে ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় ২ বগির মাঝে পড়ে যুবক নিহত
দুই বন্ধুর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন আমীর। সেখান থেকে ভোরে ট্রেনের ছাদে উঠে বাড়ি ফিরছিলেন।
নরসিংদী রেলস্টেশনে তিতাস কমিউটার ট্রেনের ছাদ থেকে নামার সময় দুই বগির মাঝে পড়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দিলীপ চন্দ্র সরকার।
নিহত মো. আমীর হোসেন (২৬) নরসিংদী সদর উপজেলার নগর বানিয়াদী এলাকার মৃত সামসুল হকের ছেলে।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে দুই বন্ধুর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কেল্লা শাহের মাজারে গিয়েছিলেন। রাতভর সেখানে থেকে শুক্রবার সকালে তিতাস কমিউটারের ছাদে উঠে ফিরছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে পুলিশ জানায়, তিতাস কমিউটার ট্রেনটি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। সেখানে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যেই প্রচুর মানুষ ছাদ থেকে নামছিল।
এদিকে ট্রেন পুনরায় যাত্রা শুরু করলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে কোথাও টান লেগে পরনের লুঙ্গি খুলে গেলে আমীর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে পড়ে যান। এ সময় ট্রেনটি তাকে অন্তত ৩০ গজ দূরে টেনে নিয়ে যায়।
পরে রেলস্টেশনে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পথে তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, “ট্রেনে কাটা পড়া ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার লাশ রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
আমীরের ঠিক আগে ট্রেনের ছাদ থেকে নেমেছেন তার বন্ধু আক্রাম হোসেন। তিনি বলেন, “একসঙ্গেই আমরা তিন বন্ধু কেল্লা শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। ভোরে ট্রেনে উঠার সময় প্রচণ্ড ভিড়ে ভেতরে যেতে না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠি।
“নরসিংদী আসার পর দুজন ছাদ থেকে নামতে পারলেও আমীর পারেনি। চলতে শুরু করা ট্রেনের দুই বগির মাঝে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। চোখের সামনেই বন্ধুর মৃত্যু দেখলাম।”
রেলওয়ে পুলিশের এসআই দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, “পরিবারের সদস্যদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।”
