কুশিয়ারার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি, দুর্ভোগ চরমে
সিলেটে বন্যার কারণে ৪৭৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীর চারটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। এতে উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিয়ে যাচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
এ ছাড়া পাহাড়ি ঢল অব্যাহত কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার পানি ধীরে নামছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা তাসলিম বলেন, “কুশিয়ারা নদীর চারটি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে উপজেলা পরিষদ, পৌর এলাকা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক বাসিন্দা।”
বিকালে নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও বাঁধ ভেঙে যাওয়া লোকালয়ে পানি বেড়েছে বলে জানান তিনি।
তবে বন্যাকবলিত এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত আছে বলে জানান ইউএনও।
জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবদুল আহাদ বলেন, “পৌর এলাকার ৮০ ভাগ এলাকার বাসাবাড়িতে পানি উঠেছে। এর মধ্যে ১, ৩, ৪, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোথাও হাঁটুসমান আবার কোথাও গলা পানি রয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক ছাড়া সবকটি সড়ক তলিয়ে গেছে।
“সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কেও হাঁটুসমান পানি আছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও খাবার বিতরণ করা হচ্ছে; তবে আরও ত্রাণ হলে ভালো হবে।”
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, পাহাড়ি ঢল অব্যাহত ও নিম্নাঞ্চলে পানি থাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে দেরি হচ্ছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় দফার বন্যায় জকিগঞ্জের অনেক এলাকার বাঁধ ভেঙেছে; তবে বন্যার পানি না নামলে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব না বলে জানান তিনি।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ জেলায় ২৫ দশমিক ছয় মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চার দশমিক তিন মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
পাউবো জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০১, শেওলা পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার এবং শেরপুরে চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানায় পাউবো।
সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা বন্যা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার জেলার ১০১টি ইউনিয়নের এক হাজার ১৮০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ছয় লাখ ২৬ হাজার ১৩৮ জন মানুষ। এ ছাড়া ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন নয় হাজার ৩২৯ মানুষ।
সিলেটে ৪৭৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জেলার এক হাজার ৪৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৯৮টিতে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া পাঠদান বন্ধ রয়েছে মাধ্যমিকের ৭৮টি বিদ্যালয়ে।
প্রাথমিকের মধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় ৩৭, বিশ্বনাথে দুই, বালাগঞ্জে ৫৫ ফেঞ্চুগঞ্জে ৩২, গোলাপগঞ্জে ২৭, বিয়ানীবাজারে ৫৪, জকিগঞ্জে ২৩, কানাইঘাটে চার, জৈন্তাপুরে তিন, গোয়াইনঘাটে দুই, কোম্পানীগঞ্জে ৬৫, দক্ষিণ সুরমায় ২২ ও ওসমানীনগরে ৭২টি বিদ্যালয় রয়েছে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, বন্যার কারণে বন্ধ থাকা ৩৯৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৭টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। আর বাকিগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।
বন্যার কারণে পাঠদান বন্ধ হয়ে যাওয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানান সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাইদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ।
আরও পড়ুন:
