০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে ফেরার প্রস্তুতির মাঝেই না ফেরার দেশে প্রবাসী তরুণ

মোটরসাইকেলে করে ওষুধ পৌঁছে দিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি।

দেশে ফেরার প্রস্তুতির মাঝেই না ফেরার দেশে প্রবাসী তরুণ

ইমরান হোসেন উজ্জ্বল সিকদার (২৭)

রফিক আহমদ খান, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Oct 2026, 02:32 PM

Updated : 06 Oct 2026, 02:32 PM

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টেনে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে থিতু হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের ঠিক কয়েক মাস আগেই মালয়েশিয়ার পেরাক রাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। সঙ্গে নিহত হয়েছেন তার সহকর্মীও।

নিহত এক বাংলাদেশি হলেন ইমরান হোসেন উজ্জ্বল সিকদার (২৭), তিনি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গাট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়ার গাট্টি গ্রামের কৃষক কালাম সিকদারের ছেলে। নিহত অন্য তরুণের বাড়ি কুষ্টিয়ায়; তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে পেরাক রাজ্যের ইপোহ শহরের আয়ার তাওয়ার এলাকায় এ দুর্ঘটনার খবরটি প্রকাশ করেছে স্থানীয় পত্রিকা ‘দ্য স্টার’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তারা। ঘটনার দিন নির্ধারিত গন্তব্যে ওষুধ সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় আয়ার তাওয়ার এলাকায় পৌঁছালে তাদের মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন প্রাণ হারান।

চার ভাই-বোনের মধ্যে ইমরান সবার বড়। ৯ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় এসেছিলেন তিনি। এখানে টানা সাত বছর কাটিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফেরেন এবং ১০ অক্টোবর বিয়ে করেন। বিয়ের তিন মাস পর পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে গেলেও তার পরিকল্পনা ছিল চাকরি ছেড়ে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসা।

ইমরানের প্রতিবেশী আরেক প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক জানান, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন ইমরান। ২০১৭ সালে ১৮ বছর বয়সে পাড়ি জমান প্রবাসে। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। তার বাবাও কৃষিকাজের পাশাপাশি নার্সারির ব্যবসা শুরু করেছিলেন।

রাজ্জাক বলেন, “ইমরান প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন এবং দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছার কথা জানাতেন।”

এদিকে সালথার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দাবির উদ্দিন জানান, ইমরানের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি তিনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন, সেখান থেকেও পরিবারটিকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।