ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেওয়াদের তথ্য চেয়েছে সরকার: সংসদে মন্ত্রী
নতুন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে, বলেন তিনি।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি বা অন্য সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সরকার যে তথ্য চেয়েছে, তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
রোববার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকার তথ্য চেয়েছে।
এদিন ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী জানতে চান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি, পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা নেওয়া প্রমাণিত হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, কে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন এবং কাদের সন্তান সেই সনদের সুবিধায় চাকরি পেয়েছেন, সেই তথ্য চেয়ে সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
“ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর থেকে জবাব আসতে শুরু করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কাজ করেন, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হবে, বলেন তিনি।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে কোনো গেজেটধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হওয়ার অভিযোগ এলে উপকমিটির মাধ্যমে তদন্ত ও শুনানি হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নতুন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অমুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য যাচাই-বাছাই চলছে।
আহমেদ আযম বলেন, “গত ফ্যাসিবাদের ১৮ বছরে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে শুধু বিরোধী দলের রাজনীতি করবার কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে গত ১৭ বছরে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের জন্য নতুন একটি অধিদপ্তর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গুম দিবসে সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান।
জবাবে আহমেদ আযম বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য ইতোমধ্যে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের জন্য আলাদা আরেকটি অধিদপ্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
