ব্যাংক হিসাব নেই কেন, যে যুক্তি শোনাল জামায়াত
“আগামী রিটার্নের সময় পরিবেশ অনুকূল থাকলে আমরা অবশ্যই এটা করব,” বলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল।
‘অনুকূল’ পরিবেশ না থাকায় এতদিন দলের ব্যাংক হিসাব খোলা যায়নি বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “গত ১৫ বছর আমরা বাড়িঘরে থাকতে পারি নাই। ব্যাংক হিসাব খুলতে যাব কেন?
“ব্যাংক হিসাব খুলতে যদি যেতাম, আয়নাঘরে ঢুকতে হতো। সে কারণে যে রিটার্নটা আমরা এখন দিয়েছি, সেখানে ব্যাংক উল্লেখ নেই। সামনে রিটার্নের সময় অবশ্যই পরিবেশ অনুকূলে থাকলে আমরা এটা করব।”
নিবন্ধন বাতিল হওয়ার আগে ২০১৩ সালে সবশেষ আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয় জামায়াতে ইসলামী। জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলতি বছর তারা নিবন্ধন ফিরে পায়। সেই বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী এক যুগ পর ফের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিল দলটি।
জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল গত ৩১ জুলাই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষের আয়-ব্যয়ের যে হিসাব জমা দেয়। তবে সেই প্রতিবেদনের তথ্য সাংবাদিকরা জানতে পারেন মঙ্গলবার।
২০২৪ সালে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা আয়ের বিপরীতে ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে জামায়াত।
নির্বাচন কমিশনের দল নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী, প্রত্যেকটি দলের ব্যাংক হিসাব নম্বর ও ব্যাংকের নাম থাকা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু জামায়াতের জমা দেওয়া নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোনো ব্যাংক বা হিসাবের কথা বলা নেই।
এদিন সিইসির সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে পড়ে জামায়াতের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল।
জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন করে বসেন হামিদুর রহমান আযাদ। বলেন, “কেন— এর জবাবটা আপনিই দেন, আমরা ১৫ বছর কোথায় ছিলাম?”
তিনি বলেন, “হিসাব পদ্ধতিতে যদি যান, আমার বাবা-দাদার আমলে ব্যাংক হিসাব ছিল কত জনের? কোটি কোটি টাকার লেনদেন তো হয় দোকানগুলোয়। এখনও বাংলাদেশের একটা বিরাট সংখ্যা আছে, যাদের ব্যাংক হিসাব নেই।
“হিসাবের যদি সিস্টেম আনেন, যার যার মত হিসাব রাখতে পারে। ইলেকশন কমিশনও তার কোনো শর্ত আরোপ করে না যে ব্যাংক হিসাব খুলেই দলের হিসাব রাখতে হবে। এটা আমার দলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।”
হামিদুর রহমান বলেন, “২০০৮ সালে দলের যে রিটার্ন জমা দেওয়া হয়, সেখানে ব্যাংক হিসাব উল্লেখ ছিল। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করেছি।
“এরপর দেশে কী হয়েছে আপনারা জানেন, ব্যাখ্যার দরকার নাই।”
আরও পড়ুন
