০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মানুষের আইনের ‘কবর রচনার’ দাবি সংসদে তুললেন জামায়াতের এমপি

দেশে ইসলামী আইন চালুর বিষয়ে পরামর্শ দিতে একটি ইসলামী বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান।

মানুষের আইনের ‘কবর রচনার’ দাবি সংসদে তুললেন জামায়াতের এমপি
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Apr 2026, 04:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:30 PM

বাংলাদেশে মানুষের তৈরি করা আইনের ‘কবর রচনা করে’ কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় এই দাবি তুলে ধরেন রাজশাহী ১ আসনের সেই সংসদ সদস্য।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে মুজিবুর রহমান বলেন, “আমরা আল্লাহর আইন চাই। আপনারা আল্লাহর আইনের বিরোধিতা করবেন না বলেছেন। অতএব আসুন বাংলাদেশে মানুষের আইনের কবর রচনা করে, কোরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করি।”

তিনি বলেন, সংসদ ভবনে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ঈমান’ লেখা আছে; তাই আইনের উৎস হওয়া উচিত আল কোরআন।

তার ভাষায়, “কোরআনের বিধান বাংলাদেশে চালু হওয়া উচিত ছিল।”

মুজিবুর রহমান বলেন, দেশের ‘অধিকাংশ মানুষ’ কোরআনে বিশ্বাস করে এবং কোরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করা ‘তাদের দাবি’।

সূরা হজের ৪১ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা থাকবে, তারা নামাজ কায়েম করবে, যাকাত চালু করবে, ভালো কাজের নির্দেশ দেবে এবং মন্দ কাজ বন্ধ করবে।”

কিন্তু আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার পরিচালনা করেও জাতীয় সংসদে ‘কোরআনের একটি আইনও চালু না করায়’ আক্ষেপ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই এমপি। 

প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কেন নামাজ চালু করা হল না, কেন যাকাত চালু করে ক্ষুধা দারিদ্র বেকারত্ব দেশ থেকে দূর করা হল না, কেন ভালো কাজ চালু করে মানুষকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হল না, কেন খারাপ কাজগুলো বন্ধ করে অশান্তি থেকে মানুষকে রক্ষা করা হল না, সে বিষয়ে জবাব দিতে হবে।”

দেশে ইসলামী আইন চালুর বিষয়ে পরামর্শ দিতে একটি ইসলামী বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেন মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, সংসদে থাকা মাদ্রাসাপাস সদস্য, বিভিন্ন মাজহাবের আলেম এবং আহলে হাদিস আলেমদের নিয়ে এমন একটি বোর্ড করা যেতে পারে, যারা ইসলামী আইন চালুর বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

বক্তব্যে ‘সুদ, ঘুষ, মদ, জুয়া, ব্যভিচার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির’ সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য।

তিনি বলেন, “চাঁদাবাজ কোনো দলের সদস্য হতে পারে না। চাঁদাবাজদের ধরতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে। বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে হবে।”

দীর্ঘদিন এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষকদের কষ্টের কথাও সংসদে তোলেন মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, “শিক্ষকদের আর এভাবে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়; তাদের বেতন-ভাতা ও এমপিওর দাবি দ্রুত মেটানো দরকার।”

একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর এবং শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের ‘দুরবস্থার’ কথা তুলে ধরে জামায়াতে এই এমপি তিনি বলেন, দেশের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্স ও চালক নিশ্চিত করতে হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে মুজিবুর রহমান বলেন, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, যা সমীচীন ছিল না।

“আমরা একটা ভোটের শপথ নিলাম, আরেকটা ভোটের শপথ নিলাম না, তাহলে জনগণের ভোটের সঙ্গে সত্যিকার ভালো আচরণ করা হল না।”

তার দাবি, গণভোটের রায় কার্যকর না করলে যে ‘দ্বন্দ্ব’ তৈরি হয়েছে, তার সমাধান হবে না।

মুজিবুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের কথা বলেন, তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বিএনপির অসুবিধা কোথায়, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

জামায়াতকে ভোট দিলে ‘জান্নাতের টিকিট’মিলবে কি না, সেই কটাক্ষেরও জবাব দেন মুজিবুর রহমান।

সূরা তওবার ১১১ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জান ও মাল আল্লাহর পথে দিলে জান্নাতের প্রতিদান পাওয়া যাবে, এটি আল্লাহর কথা।”

তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম, জামায়াতে ইসলামের কোন নেতা বলেছে যে আমার কাছে জান্নাতের টিকিট আছে, বিক্রি করছি?”

তাহলে জামায়াতকে নিয়ে কেন এমন কথা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও জবাব চান মুজিবুর রহমান।