০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

“একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও স্বশিক্ষিত কিংবা মেধা সম্পন্ন হতে পারেন।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Sep 2026, 03:29 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সংসদ সদস্য পদের মতো স্থানীয় সরকারের যেকোনো পদে জনপ্রতিনিধি হতে কেবল ভোটার হলেই চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সচিবালয়ে তিনি এসব তথ্য দেন।

মীর শাহে আলম বলেন, “আমাদের স্থানীয় সরকারের যে পাঁচটি আইন রয়েছে, তার কোনোটিতেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

“ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কিংবা পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র-কাউন্সিলর—কোনো পদেই দাঁড়ানোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।”

সংসদ সদস্য পদের উদাহরণ টেনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও ফর্মে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই, কারণ সংবিধানেই এমন বিধিনিষেধ নেই। 

“একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও স্বশিক্ষিত কিংবা মেধা সম্পন্ন হতে পারেন। সব নাগরিকের জন্য এই সুযোগ উন্মুক্ত না রাখলে তা হবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন।”

সংবাদ সম্মেলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে বলা আছে—প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠানরত ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৫’ (বিধি ১১.১৭-এর ক ও খ) অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকের পদকে লাভজনক পদ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার সঙ্গে নির্বাচনি আইনের মিল থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তাদের দেওয়া বিধিমালা অনুযায়ী তারা যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণ করবেন। 

“তবে কমিশন যদি এ নিয়ে কোনো স্পষ্ট বা আইনি ব্যাখ্যা চায়, তবে আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে তা পরিষ্কার করে দেব।”

স্থানীয় সকার নির্বাচনের বিল পাস নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ সংক্রান্ত বিলগুলো যখন সংসদে পাস হয়, তখন সকল রাজনৈতিক দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাই সরকারের ওপর একতরফা দায় চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।”