আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না, তারা ‘মাফিয়া গ্যাং’: তথ্য উপদেষ্টা
"আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকত, এই সহিংসতাগুলো করা হত না।"
কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞায় থাকা আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে মানতে চান না প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তার কথায় দলটি স্রেফ ‘একটি মাফিয়া গ্যাং’।
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় এ কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের হওয়ার’ কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
এ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইটস আ মাফিয়া গ্যাং। এই যে মাফিয়া গ্যাং বলছি, এটার একটা প্রমাণ হচ্ছে, কেউ কেউ তাদেরকে রাজনৈতিক দল বলে, তাদের এক ধরনের অধিকার আছে, রাজনীতি করবে না কেন, এই আলাপ তুলতে আসেন।
“আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যা হল, আমার মনে হয়—এটা আবার বোঝাল ওদের আদৌ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে কোনোভাবে আমাদের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত হবে কি না।”
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন জাহেদ উর রহমান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি প্রায়ই বলতাম শেখ হাসিনা যখনই কথা বলেন—তার এই কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা আছে, কিন্তু যখনই কথা বলেন তিনি আদতে আসলে দেখান এরা কত নোংরা।
“খেয়াল করব আমরা, রাজনৈতিক দল—আপনি যদি যা যা ঘটিয়েছেন এরপর যদি ন্যূনতম আপনার দুঃখবোধ থাকত, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকত, এই সহিংসতাগুলো করা হত না। কোনোভাবেই হত না।”
তিনি বলেন, “আবার আমরা এটুকুও বলি আওয়ামী লীগের যে কোনো পক্ষ থেকে, আমরা প্রস্তুতও আছি আপনারা একই কাজ করতে পারেন।
“শেখ হাসিনাকেই কেয়ার করি নাই, আমরা শেখ হাসিনার চৌদ্দ পুরুষসহ পালাতে বাধ্য করেছি, আর সেখানে কিছু মাস্তান একটু পার্কে-টার্কে মাস্তানি করবে—উই ডোন্ট কেয়ার! আমরা, তবে—আমরা ছাড়ব না, নিশ্চয়ই ছাড়ব না।”
জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
ওই দাবির মুখে গত বছরের ১২ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
