‘গণতন্ত্রের স্বার্থে’ জাপাকেও ভোটের সুযোগ দিতে হবে: জিএম কাদের
“কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে জাতীয় পার্টিকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিচ্ছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই,” বলেন তিনি।
গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে জাতীয় পার্টি ধারাবাহিক ভূমিকা রেখেছে দাবি করে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, অন্য রাজনৈতিক দলের মতো তার দলকেও জাতীয় নির্বাচন অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের দাবির সমর্থন করে জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন রাস্তা নামলেও তাদের ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দেওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার ঢাকার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সংবিধান সংরক্ষণ’ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেদিন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সেনাপ্রধানের বৈঠকে জাতীয় পার্টিও ছিল।
টানা চারটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বা সমঝোতা করে ভোটে যাওয়া জাতীয় পার্টিকে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সংলাপ, আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায়ও দলটি ছিল না। নির্বাচন কশিনের সংলাপেও ডাকা হয়নি তাদের।
‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে দলের ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
প্রয়াত রাষ্ট্রপ্রতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সংবিধান রক্ষায় ‘গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করার হয়েছিল দাবি করে জিএম কাদের বলেন, “তারই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশ একটি সাংবিধানিক ভিত্তির উপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”
এরশাদের শাসনামলে দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় দাবি করে তিনি বলেন, “মানুষ তখন নিরাপদে ছিল; বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি; দুর্নীতি ছিল নিয়ন্ত্রিত। অথচ পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সময় দেশ একাধিকবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যা বেড়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য গুরুতর হুমকি।”
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে জাতীয় পার্টি ধারাবাহিক ভূমিকা রেখেছে। বিগত জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি সরকারদলীয় একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব ছিল, কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে চিহ্নিত করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
“জুলাই আন্দোলনে জাতীয় ছাত্র সমাজই প্রথম রাজপথে নেমে ছাত্রদের ন্যায়সংগত দাবির পাশে দাঁড়ায়। পুলিশের গুলিতে আমাদের বহু নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন। অথচ দুঃখজনকভাবে, কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বার্থে জাতীয় পার্টিকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিচ্ছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
সরকারের উদ্দেশে জিএম কাদের বলেন, “গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল করতে চাইলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতো জাতীয় পার্টিকেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে মাঠ সমতল করা সরকারের দায়িত্ব।”
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শেরীফা কাদের, মো. রেজাউল ইসলাম ভূঞা, ইকবাল হোসেন তাপস, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান মাহমুদ, মো. খলিলুর রহমান খলিল, জাহিদ হাসান, গোলাম রহমান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আমির উদ্দিন ডালু, সুলতান আহমেদ সেলিম, এম এ সোবহান, আক্তার হোসেন দেওয়ান, হুমায়ুন খান।
