বদরুদ্দীন উমর আমৃত্যু জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করেছেন: শোকবার্তায় ফখরুল
“আজীবন বাম প্রগতিশীল রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট মরহুম বদরুদ্দিন উমর সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন নিজ আদর্শে অবিচল থেকে।”
লেখক, গবেষক ও মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
‘বদরুদ্দীন উমর আমৃত্যু জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করেছেন ও কলম ধরেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যের নানা জটিলতায় আক্রান্ত বদরুদ্দীন উমর রোববার সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
শোক বার্তায় মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনীতির দূর্নীতিকরণের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক জলন্ত প্রতিবাদ। বিদ্যমান রাজনৈতিক সামাজিক প্রেক্ষাপটে তার মত নির্ভিক মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবীর বেঁচে থাকা খুব জরুরি ছিল।”
বদরুদ্দীন উমরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “লেখক, গবেষক, বামধারার বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক বদরুদ্দিন ওমরের মৃত্যুতে আমি বেদনাহত। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের এবং শোষণ মুক্তি সংগ্রামের প্রেরণা ছিল তার লেখনি। ইতিহাসের পরিক্রমায় নানা উত্থান-পতনের ঘটনা নিয়ে তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। আজীবন বাম প্রগতিশীল রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট মরহুম বদরুদ্দিন উমর সহজ, সরল, অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন নিজ আদর্শে অবিচল থেকে।
‘‘কখনোই স্বৈরশাসকের ধমকে নীরব দর্শক হয়ে থাকেননি বরং তিনি তার কথা ও লেখনিতে অন্যায় ও অবিচারের স্বৈরতন্ত্রের মূলে প্রচণ্ড শক্তিতে কুঠারঘাত করেছেন।”
বদরুদ্দীন উমরের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে মির্জা ফখরুল।
১৯৩১ সালে ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার বাবা আবুল হাশিম ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স শেষ করার আগেই দর্শন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন বদরুদ্দীন উমর। ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে তিনি যোগ দেন। তার হাত দিয়েই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা হয়।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী।
এক সময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন বদরুদ্দীন উমর। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে সভাপতির দায়িত্ব নেন।
