গণভোট বন্ধের আহ্বান প্রিন্সের
“এ বিষয়ে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে,” বলেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
সরকারকে ‘অপ্রয়োজনীয় গণভোট’ আয়োজন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ।
রোববার বিকালে ফকিরাপুলে ঢাকা-৮ আসনে সিপিবির প্রার্থী ত্রিদ্বীপ সাহার নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
সরকারের সমালোচনা করে প্রিন্স বলেন, “এই সরকার ‘কানে দিয়েছে তুলো, পিঠে দিয়েছে কুলো’; তারা জনগণের কোনো কথা শুনছে না। এই নির্বাচনের সময়ও চট্টগ্রাম বন্দর লিজ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
“ভয়ের রাজত্ব, মব সন্ত্রাস দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। নির্বাচনে টাকার খেলা, পেশি শক্তির দাপট আর সাম্প্রদায়িক শক্তির ধর্মের ব্যবহার বন্ধে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় জনমনে নির্বাচনে নানা ধরনের প্রশাসনিক কারসাজির আলোচনা সামনে চলে আসছে।”
গণভোট বন্ধ করার দাবি জানিয়ে সিপিবির এই নেতা বলেন, “অপ্রয়োজনীয় গণভোটে 'হ্যাঁ' এর প্রচার নিয়ে সরকার যে পরিস্থিতি তৈরি করছে, তা জনমনে আর এক উদ্বেগ তৈরি করছে । জুলাই সনদে বর্ণিত ৪৮ বিষয়, ভূমিকা, পটভূমি, বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় যা লেখা হয়েছে, তা দেশের সাধারণ মানুষ জানে না।
“এ বিষয় নিয়ে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, তার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই অপ্রয়োজনীয় গণভোট বন্ধ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাযথ ভূমিকা পালন করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই “
তিনি বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে দেশ আরেক ধরনের সংকটে পড়বে। এ দায় নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে বহন করতে হবে। কোনো গোষ্ঠী যেন দেশকে সংকটে না ফেলতে পারে, আসুন সেজন্য আমরা যার যার অবস্থান থেকে ওই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে কণ্ঠকে সোচ্চার করি।”
গণসংযোগে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, “নির্বাচনের পরিবেশ এখনও পর্যন্ত যথাযথ হয়নি। পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেনি। ভয়ের রাজত্ব অব্যাহত আছে।”
গণসংযোগে সিপিবির প্রার্থী প্রদ্বীপ সাহাও উপস্থিত ছিলেন।
