২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘শান্ত থেকেছি, নীরব থেকেছি’, হাসপাতালে তোপের মুখে পড়া নিয়ে আব্বাস

“হাদিকে গুলি করার পর এক-দেড়শ লোক মব তৈরিতে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়েছেন, যারা বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2025, 08:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:18 PM

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে তোপের মুখে পড়া বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ‘শান্ত’ ও ‘নীরব’ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, তাকে দেখে সেখানে যারা ‘আক্রমণাত্মক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন, তিনি নির্দেশ দিলে তারা ‘তুলাধুনা’ হয়ে যেতেন।

মির্জা আব্বাস বলেন “হাদি আমার সন্তান সমতূল্য। সে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি।

“এ আঘাত গণতন্ত্রের উপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে; ওরা অপশক্তি।”

শনিবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সমাবেশের পর হয় বিক্ষোভ মিছিল।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘আমি প্রথমেই হাদির ওপরে এই আঘাতের তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে চাই, এই আঘাত হাদির  উপরে নয়, এই  আঘাত বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের উপরে, এই আঘাত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপরে, এই আঘাত বাংলাদেশের স্বাধীনতার উপরে। এটাকে আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।

‘‘এই অপশক্তির কালো হাত ভেঙে দিতে হবে; এদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।”

শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি, যিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। 

চলন্ত অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে তার মাথায়।

হাদিকে প্রথমে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচারের পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর হাদিকে দেখতে যান একই আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি তোপের মুখে পড়েন। 

এ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘‘হাদির গুলি লেগেছে সোয়া ২টায়। ঠিক আড়াইটার সময় ফেসবুকে পোস্ট হলো, সবাই ঐক্যবদ্ধ হও, কোনো একটা বাসায় যেতে হবে, ইট খুলে নিয়ে আসতে হবে।

“ভাবতে পারছেন ব্যাপারটা! কত পরিকল্পিত! এটাকে আরো সংহত করেছে আমি যখন হসপিটালে যাই তখন, তারা আক্রমণাত্মক শ্লোগান দিচ্ছিল।”

মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি ঢাকার ছেলে, আমি ঢাকার রাজপথে মিছিল করে বড় হয়েছি, আমার বয়সটা একটু বেশি হয়ে গেছে। শান্ত থেকেছি, নীরব থেকেছি, কিন্তু ওই মুহূর্তে যদি আমার নির্দেশনা পেত, তাহলে কিন্তু তোমাদের তুলোধুনা করত।”

কারো নাম উল্লেখ না করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি অনেক ষড়যন্ত্র দেখেছি। এদের ষড়যন্ত্র  একাত্তর সালে দেখেছি, এদের ষড়যন্ত্রের কথা শুনেছি ৪৭ সালে। একাত্তর, ৮৬, ৯০, ৯১- সব সময় দলটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল।

“এরা স্থিতিশীল রাষ্ট্র চায় না। এরা রাষ্ট্রকে সবসময় অস্থিতিশীল রাখতে চায়। ওদের মূল শক্তিই ষড়যন্ত্র।”

হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনার পর তার  মৃত্যু সংবাদ ছড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “একটি লোক গুলিবিদ্ধ হয়েছে, সে যেই হোক, তার মৃত্যু কামনা করি না। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এক-দেড়শ লোক ফেইসবুকে দেশে মব সৃষ্টির জন্য উসকানি দিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তারা সকলেই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য।”

তিনি বলেন, “৭৭ সাল থেকে নির্বাচন করে আসছি। কারও সঙ্গে মারামারি হয়নি। একসাথে প্রার্থীরা কোলাকুলি করেছি, একজন আরেকজনের বাসায় গিয়ে খেয়েছি। মারামারি করে আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচনসহ রাষ্ট্রকে অস্থির করে সেই বিতর্কিত রাজনৈতিক দলটি। আমরা চাই, হাদীর ওপর হামলাকারী গ্রেপ্তার হোক এবং বিশেষ দলের মুখোশ উম্মেচিত হোক।”

মির্জা আব্বাস বলেন, “হাদি আমার নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনি মাঠে আবারও সক্রিয় পাব, সেই প্রত্যাশা করি।”

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনিপির সদস্য ইশরাক হোসেন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রেজাউল কবির পল বক্তব্য রাখেন।