শিবির নেতা হত্যা নিয়ে সংসদে আলোচনা চাইল জামায়াত, স্পিকার বললেন ‘পয়েন্ট অব অর্ডার নয়’
স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যক্রম বা বিধি প্রয়োগে কোনো অসঙ্গতি থাকলে সে বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা যায়, ‘সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ওপর’ পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না।
গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছে জামায়াতে ইসলামী।
তবে বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় পড়ে না বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার এক পর্যায়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের রফিকুল ইসলাম খান বলেন, কয়েকটি ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রধান শিরোনাম হয়েছে।
তিনি বলেন, “একটা হল বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে কীভাবে ধরা হল, গ্রেপ্তার করা হল, গুম করা হল, কীভাবে হত্যা করা হল—এটা একটা সিরিজ নিউজ হয়েছে। আরেকটা হল গতকাল গাইবান্ধার সাঘাটায় বোনারপাড়া ইউনিয়নের একটি স্কুলের কমিটিকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওই ইউনিয়নের সভাপতিকে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।”
রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার সময় ওই ছাত্রনেতা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “ছাত্রদল, যুবদল এরা নির্মমভাবে তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় নাই। সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মামলা হয়েছে।”
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘মারাত্মক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রথমত তীব্র নিন্দা জানাই। অবিলম্বে এই খুনিদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। খুনিরা কোনো দলের না, খুনিরা খুনি। যে দলেরই হোক না কেন, তাদেরকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
বক্তব্যে তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর নারায়ণগঞ্জের এক সংসদ সদস্যের ছেলের মুচলেকায় মুক্তি পাওয়ার ঘটনাও বলেন।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমি আগেও বলেছি, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার নয়। পয়েন্ট অব অর্ডার হয় সংসদে চলমান কোনো বিষয়ের উপরে।”
তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম বা বিধি প্রয়োগে কোনো অসঙ্গতি থাকলে সে বিষয়ে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলা যায়, ‘সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ওপর’ পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না।
তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে নোটিস দেওয়ার পরামর্শ দেন স্পিকার।
মাগরিবের বিরতির পর জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বিষয়টি আবার উত্থাপন করেন।
তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে সেই সময় সংসদ অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা জয়নুল আবেদীনকে উদ্দেশ করে বলেন, শিবির নেতা হত্যা ও মুচলেকায় এক সংসদ সদস্যের ছেলের মুক্তির ঘটনা নিয়ে আলোচনার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল ৬৮ বিধিতে নোটিস দিয়েছেন।
নাজিবুর রহমান বলেন, “আমি তাতে সমর্থন করেছি। এই বিষয়ে আলোচনার ব্যাপারে আপনার সদয় বিবেচনা আশা করছি।”
