পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্যের বিষয়গুলো নিয়েই জুলাই সনদ হোক: বাংলাদেশ জাসদ
দলটি বলছে, জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া যাবে না।
রাষ্ট্র সংস্কারের সংলাপে যে সব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ঐকমত্য হয়েছে, কেবল সেগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সই নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ।
জুলাই জাতীয় সনদের ‘সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া’র বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এই মতামত জানিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশ জাসদ বলেছে, দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারেরগুলো সরকারি আদেশ ও রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এখনই বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
তবে দলটি দৃঢ়ভাবে বলেছে, জুলাই জাতীয় সনদকে ‘সংবিধানের ঊর্ধ্বে’ স্থান দেওয়া যাবে না। সনদ নিয়ে যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হয়, তাকে আদালতের দ্বারস্থ হবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
এছাড়া সংবিধানের সংশোধনীগুলো নির্বাচিত জাতীয় সংসদ ও উচ্চকক্ষে (যদি নির্বাচিত হয়ে) গ্রহণ করার পক্ষে মত দিয়েছে দলটি।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া এই মতামত শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জাসদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দলিলের পটভূমি অনুচ্ছেদে বর্ণিত প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিক-পেশাজীবী-জনগণের সংগ্রামকেও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। নব্বই পরবর্তীতে দেশ পরিচালনাকারী দুটি দলের কর্তৃত্বপরায়ণ আচরণ, হত্যা, খুন ও গ্রেনেড হামলার বিবরণ না তুলে ধরে একপেশে ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। ২০০৮ নির্বাচনের রায়কে অস্বীকার করার প্রবণতা ফুটে উঠেছে।”
দলটি বলেছে, “ঐকমত্যে উপনীত হওয়া বিষয়সমূহ’ অনুচ্ছেদে আমাদের অবস্থান আংশিক বিধৃত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি অংশটি জুলাই জাতীয় সনদ থেকে বাদ দেবার জন্য আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনাতে আহ্বান জানিয়েছি। সেটা আপনারা বিবেচনা করেননি। আমরা পুনরায় ব্যক্ত করছি। রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এমন একটি বিষয় যেটি এ ফোরামে দ্বিমত জানিয়ে মেনে নেওয়ার বিষয় নয়।
“আমাদের দল অবৈধ ক্ষমতা দখলকে প্রতিরোধে সংবিধানের ৭(ক) ধারা বাতিলের বিপক্ষে। সংবিধানের পরিবর্তনের জন্য গণপরিষদ ও গণভোটকে আমরা অপ্রয়োজনীয় মনে করি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) বিলুপ্ত করা এবং এ সংশ্লিষ্ট পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তফসিল সংবিধান থেকে তুলে দেওয়ার আমরা তীব্র বিরোধী। সংবিধান থেকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রভৃতি আমাদের ইতিহাসের গৌরবজনক অংশ। সেগুলো সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করার সামিল।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সংরক্ষণের জন্য আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ত্রয়োদশ সংশোধনী পুনরুজ্জীবনের বিরুদ্ধে। নারী আসন ১০০টি সংরক্ষণ করা এবং তাতে সরাসরি নির্বাচনের দাবি করে বাংলাদেশ জাসদ। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আমাদের আপত্তি আছে।”
রাষ্ট্র সংস্কারে সংলাপের ভিত্তিতে তৈরি জুলাই জাতীয় সনদের সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়ার বিষয়ে ২৩ দল মতামত দেয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দলগুলোর ২০ অগাস্টের মধ্যে মতামত পাঠানোর কথা ছিল, পরে দুদিন বাড়িয়ে ২২ অগাস্ট বিকাল ৩টা পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়।
মতামত পাওয়ার পর সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়ার ওপর মাসের শেষ সপ্তাহে ২৬-২৭ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
দলগুলোর কাছে পাঠানো সমন্বিত খসড়ায় জুলাই সনদ ‘সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে’ কার্যকরের পাশাপাশি তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করেছে ঐকমত্য কমিশন।
