০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মৃত্যুবার্ষিকীতে বদরুদ্দীন উমরের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন

“মার্কসবাদ-লেনিনবাদের উপর ভিত্তি করে সমাজ বিপ্লবের রাজনৈতিক কর্মী তৈরি করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বদরুদ্দীন উমর।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 03:02 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

লেখক, গবেষক ও মার্কসবাদী তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনসহ  (টাফ) কয়েকটি দল ও সংগঠন।

সোমবার সকালে রাজধানীর জুরাইন গোরস্তানে এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সহ-সভাপতি মুঈনুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতা আবদুস সামাদ ও রফিক আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায় এবং ঢাকা নগর শাখার সম্পাদক মোহাম্মদ বোরহান শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

বদরুদ্দীন উমরের জীবন ও কর্মের স্মৃতিচারণ করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা ফয়জুল হাকিম বলেন, “বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন গঠনে,শ্রমিক কৃষক নিপীড়িত জাতি ও জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে বদরুদ্দীন উমর তার সমগ্র জীবন ব্যবহার করেছেন। মানুষ তার নিজের জীবন ব্যবহার করার সুযোগ পায় জীবনে শুধুমাত্র একটিবার, উমর তার সেই জীবনকে ব্যবহার করেছিলেন সমাজের আমূল পরিবর্তনে।

“মার্কসবাদ-লেনিনবাদের উপর ভিত্তি করে সমাজ বিপ্লবের রাজনৈতিক কর্মী তৈরি করতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বদরুদ্দীন উমর।”

ফয়জুল হাকিম বলেন, “তিনি একধারে গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী সংগ্রামের সাথে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন, শাসক শ্রেণি ও বিদ্যমান সমাজের শ্রেণি বিশ্লেষণ করে মুক্তির পথ নির্দেশ করে গেছেন এবং একই সঙ্গে সমাজ বিপ্লবের হাতিয়ার বিপ্লবী পার্টি নির্মাণে ভূমিকা রেখেছিলেন।”

শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’, ‘কমরেড বদরুদ্দীন উমর, লও লও লাল সালাম’ স্লোগান দেন।

পরে মাসিক ‘সংস্কৃতি’ পত্রিকার পক্ষ থেকে হাসিবুর রহমান ও মুঈনুদ্দীন আহমদ এবং প্রকাশনা সংস্থা ‘বাঙ্গালা গবেষণা’র পক্ষে প্রকাশক আফজালুল বাসারও সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে বদরুদ্দীন উমরের ওপর আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের (একাংশ) নেতাকর্মীরা। 

এ ছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট ও যশোরেও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুক্তি কাউন্সিল।

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘বাংলাদেশের বিপ্লবী আন্দোলন ও কমরেড বদরুদ্দীন উমর’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে মুক্তি কাউন্সিল। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেবেন।

গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কমিউনিস্ট বিপ্লবী ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বদরুদ্দীন উমর।

১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা আবুল হাশিম ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ।

১৯৬৮ সালে শিক্ষকতায় ইস্তফা দিয়ে সরাসরি রাজনীতি ও সার্বক্ষণিক লেখালেখিতে যুক্ত হন বদরুদ্দীন উমর। তিনি একসময় পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে তিনি ‘জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল’ গঠন করে এর সভাপতির দায়িত্ব নেন।

অন্তর্বর্তী সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।