চব্বিশের আন্দোলন ছিল ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল’: বিরোধীদলীয় নেতা
“বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি,” বলেন তিনি।
‘ফ্যাসিস্টদের’ দেশে ফেরাতে ‘বয়ান’ তৈরির পরিকল্পনা চলছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, চব্বিশের যোদ্ধারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু দেখছেন।
তিনি বলেন, “মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয় তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সেল দিতে হয়, এরা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে, এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।”
রোববার ঢাকায় এক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও ভারতে আত্মগোপনে আছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন গুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গেল ৫ অগাস্ট নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথাও বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানায় নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
তার সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির শর্ত দেয় ঢাকা। এছাড়া শেখ হাসিনা ও পলাতক অন্যদের ফেরত চেয়েছে তারেক রহমানে সরকার।
এর মধ্যে আবার প্রধামন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “চব্বিশের পরে আমরা মনে করেছিলাম ফ্যাসিবাদের যে পঙ্কিলতা, যে ময়লা, যে আবর্জনা, যুগ যুগ ধরে তৈরি হয়েছিল তা এখন পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? আসলেই কি কিছু পরিষ্কার হয়েছে? বরঞ্চ আবর্জনার কলেবর আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
“ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সাথে যায় না, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়, এই ভাইরাস যার ওপরেই ভর করবে সেই ফ্যাসিবাদী।”
জামায়াতের আমির মনে করেন, যারা সচেতন নাগরিক তাদের প্রত্যেকের জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, “কিন্তু দুর্ভাগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতির দুঃখের ঘটনাগুলাকে এখানে তুলে ধরা হয়েছিল-বিশেষ একটি দেশকে রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য তার অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “এখানে ৪৭ সাল বা ৪৬ সাল থেকে শুরু করে অনেকগুলা রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের যারা পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তাদেরকে তুলে আনা হয়েছিল। এর অনেক কিছু এখন গায়েব করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচিত সরকারের হাতে যখন আসছে অনেক নির্যাতিত মানুষ তাদের স্মৃতিচিহ্ন, ছবিগুলো ওখানে ছিল, একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে বাকিগুলো গায়েব করে ফেলা হয়েছে।”
সীমান্তে ফেলানীকে গুলি করে হত্যার স্মৃতিও গায়েব করে ফেলা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এটি ভালো লক্ষণ নয়।”
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, “ক্ষমতায় যারা আসে, আইসা-ই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।”
“আমরা তাদেরকে বলি চব্বিশে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি, তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে,” বলেন তিনি।
ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-আইডিইবির মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় সিরাত উদযাপন কমিটি এ সেমিনারের আয়োজন করে।
‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.) এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণের এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানী।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের আ ক ম আবদুল কাদের।
সেখানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন, জাতীয় সিরাত উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক আব্দুল মান্নান।
সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় দুই গ্রুপে বিজয়ী ২০ জনের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
