পৌর নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ
নির্বাচন ঘিরে পৌরসভাগুলোতে জমজমাট প্রচারণা শুরু হয়েছে। দেশের ৩২৩টি পৌরসভার মধ্যে ২৩৬টিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হচ্ছে ২৩৪টি পৌরসভায়। আইনগত জটিলতার কারণে মংলা পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। আর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নির্বাচন হবে ৭ জানুয়ারি।
আগে আমাদের দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছিল অরাজনৈতিক বা নির্দলীয়। যদিও গত কয়টি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলো দলীয়ভাবেই প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে, দলের পরিচয় দিয়েই প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট ভিক্ষা করেছেন। কিন্তু এবার পৌরসভার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতেই হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন এবং জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত সংশোধিত আইন পাশ করে অনেকটা তাড়াহুড়ার মধ্য দিয়েই পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে মেয়র পদের প্রাথীরা রাজনৈতিক পরিচয়ে দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্দলীয়ভাবে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। আইনে এ বিধান রাখা হয়েছে। মেয়ররা রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন নিয়ে ভোটে জিতবেন আর কাউন্সিলররা অরাজনৈতিক পরিচয়ে নির্বাচিত হবেন– এতে পৌরসভার কার্যক্রম চালানোয় কোনো সমস্যা হবে কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে। যেহেতু ব্যবস্থাটি নতুন, কিছু সমস্যা দেখা দিতেই পারে। তবে এবারের অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন আবার সংশোধন হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে হওয়ায় দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রায় ১৯টি দল পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। ২৩৪টির মধ্যে ২৩৩টিতে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছে। এর মধ্যে ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির মেয়র পদে প্রার্থী আছে ২১৯ জন। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা ৭৩। এছাড়া ২৭১ জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয়ভাবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এই দলের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বলে তারা নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে থাকছে না। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৩৪টি পৌরসভায় জামায়াতের প্রার্থীরা নির্দলীয় বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এর বাইরে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি-জেপি, সিপিবি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, বাসদ, এলডিপি, এনপিপি, পিডিপি, খেলাফত মজলিশ, তরীকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি, ইসলামী আন্দোলন এবং ইসলামী ফ্রন্ট পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
অবশ্য নির্বাচনী লড়াই মূলত আওয়ামী লীগ এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দলই দলের 'বিদ্রোহী' প্রার্থীদের নিয়ে সমস্যায় আছে। নানাভাবে বুঝিয়ে সুজিয়ে, দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিয়েও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীদের বাগে আনতে পারেনি। প্রায় ৬০টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। সবগুলোতে না হলেও কয়েকটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভালো অবস্থানের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিএনপিও কমপক্ষে ৩৫টি পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ অবশ্য আশা করছেন যে, আরও কজন বিদ্রোহী প্রার্থী দল-মনোনীত প্রার্থীর অনুকূলে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দিবেন।
দুই দলই কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনটি মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে। দুই দলই আশা করছে, নির্বাচনে তাদের মনোনীত প্রার্থীরাই জয়যুক্ত হবেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, কাজেই সাধারণ হিসেবে তাদের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।
কোন হিসাব ও বিবেচনা থেকে বিএনপি 'বিপুল' ভোটে জয়লাভের আশা করছে সেটা অবশ্য পরিষ্কার নয়। সবারই এটা জানা যে, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অগোছালো অবস্থায় আছে। প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই দলের অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার হয়ে কেউ কেউ কারাগারে আছেন। অন্যরা গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপনে। এই অবস্থায় বিএনপির পক্ষে 'সর্বশক্তি' দিয়ে নির্বাচনে নেমে আওয়ামী লীগের মতো প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়ে বিজয় ছিনিয়ে আনা কতটা সম্ভব সে প্রশ্ন আছে।
সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ কেন বিএনপি প্রার্থীদের ভোট দেবে? গত ক বছরে তারা রাজনীতির নামে, আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে যে সহিংসতা চালিয়েছে তাতে কি তাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে? মানুষের তো এটাই মনে করার কথা যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়াই লাভজনক। বিরোধী প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে সরকারের সহযোগিতা পাওয়া সহজ হয় না।
এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। খুব তাড়াতাড়ি ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এটা জোর দিয়েই বলছেন যে, ২০১৯ সালের আগে দেশে জাতীয় নির্বাচন হবে না। এই অবস্থায় কোনো কোনো পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থীদের 'জনপ্রিয়তা' থাকলেও মানুষ তাদের ভোট দেবে কোন বিবেচনায়? বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করলে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এলাকার উন্নয়নমূলক কাজকর্ম কীভাবে করবেন?
এলাকার উন্নয়নই যদি হয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রধান বিষয় তাহলে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষেই এলাকাবাসীর থাকার কথা। তাছাড়া এটা দেখা যাচ্ছে যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতোপূর্বে বিএনপি-জামায়াত থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের অনেকেই দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। নাশকতার মামলা বা অন্য কোনো অভিযোগে তারা গ্রেপ্তার অথবা দায়িত্বচ্যুত হয়েছেন। এসব জানাবোঝার পরেও মানুষ বিএনপিকে বিপুলভাবে ভোট দেবে বলে আশা করাটা খুব যুক্তিযুক্ত বলে মনে হচ্ছে কি?
বিএনপি জোটবদ্ধভাবে পৌর নির্বাচনে অংশ নেবে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত জোটের অন্যতম বড় শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের সমঝোতা হয়নি। স্থানীয়ভাবে সমঝোতা না হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হস্তক্ষেপ করবেন বলে জানানো হলেও তা হয়নি। যেসব পৌরসভায় জামায়াতের প্রার্থী নেই সেসব জায়গায় তারা বিএনপিকে সমর্থন দেবে এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু যে ৩৪টি পৌরসভায় জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে সেগুলোতে বিএনপি কি দলীয় প্রার্থীর বদলে জামায়াতকে সমর্থন দেবে?
গত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামায়াত বেশ কয়েকটি উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছে। তাদের সবাই কি এখন দায়িত্ব পালন করতে পারছেন?
জামায়াত রাজনৈতিকভাবে এখন কোণঠাসা হয়ে আছে। দলের শীর্ষনেতাদের প্রায় সবাই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের বেশ কজন বিচারে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং অপর দুই শীর্ষনেতা কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড এর মধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিচারপ্রক্রিয়াও শেষ। ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তার আপিলের রায় ঘোষণা করবেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, আপিল বিভাগেও এই রায় বহাল থাকবে। এছাড়া তাদের আরও কজন শীর্ষনেতার চরম দণ্ড হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই দেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, খুব শিগগির জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হবে। একই ধরনের কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফও। জামায়াতের রাজনীতি যখন ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন পৌর নির্বাচনের সাধারণ মানুষ জামায়াত-মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেবেন বলে আশা করা যায় কি?
পাশাপাশি এমন আশংকাও করা হচ্ছে যে, বিএনপি নানা অজুহাত ও অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে। ক্ষেত্র প্রস্তুত করার জন্য আগেভাগেই দলটির নেতারা বলছেন, সরকার প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনবে। যদিও বিএনপির সিনিয়র নেতা, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, প্রতিকূলতা থাকলেও তার দল শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে।
ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থেই বিএনপির উচিত নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে না যাওয়া। প্রার্থীরা জিততে না পারলেও যদি সম্মানজনক ভোট পায় তাহলে সেটা দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য সহায়ক হবে। তারা গত কয়েক বছর ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে যে সহিংসতা চালিয়েছে তাতে দলের ভাবমূর্তির যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তথা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ধারায় আদৌ বিশ্বাসী কিনা সে প্রশ্ন অনেকের মধ্যে দেখা দিয়েছে। মানুষের মন থেকে বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দূর করার জন্য হলেও পৌর নির্বাচনে তাদের মাটি কামড়ে মাঠে থাকতে হবে।
নির্বাচনের আগে আমাদের দেশে এমন প্রচারণা ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে বিএনপিকেই ভোট দেবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থক প্রার্থীদের জয়লাভের ঘটনা বিএনপির প্রতি সাধারণ ভোটারদের অতি-সহানুভূতিরই পরিচয় বহন করে।
সরকারে থেকে আওয়ামী লীগ প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে এবং একাত্তরের ঘাতক-দালালদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে জাতিকে কলংকমুক্ত করেছে। দেশে বিচারহীনতার যে অপসংস্কৃতি গেড়ে বসেছিল তা দূর করা হচ্ছে। তারপরও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের পরাজয় অনেকের কাছেই ছিল অপ্রত্যাশিত।
গত দুই বছরের অধিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় সংসদীয় রাজনীতি থেকে বিএনপি ছিটকে পড়েছে। তাছাড়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত দেশে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, অসংখ্য নিরীহ-নির্দোষ মানুষ হত্যা করেছে, তাকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক- নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি বলে মেনে নেওয়া যায় না।
এরপর, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩ মাস সরকার পতনের আন্দোলনের নামে মানুষ-হত্যার যে মহোৎসব চালিয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কেবল আতংক তৈরি হয় তা নয়, এদের রাজনীতি সম্পর্কেও চরম বিরূপতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমান সরকারের সব কাজকর্মই হয়তো দেশের মানুষের পছন্দের নয়, কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অভিযোগের কারণেও হয়তো অনেক মানুষ সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট। কিন্তু তাই বলে মানুষ মেরে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করে সরকারবিরোধী আন্দোলনও মানুষের সমর্থন পায়নি।
আসন্ন পৌর নির্বাচনে এই বিষয়গুলো নিশ্চয়ই সামনে আসবে। ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে সাধারণ মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে বলে যে ধারণা প্রচার করা হয় তা কতটা সত্য সেটাই দেখার বিষয়।
পৌর নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে সরকারের পরিবর্তন হবে না। তবে সরকারদলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনে সুবিধা করতে না পারলে বিরোধী দলের জন্য সেটা সরকারবিরোধী প্রচারণার একটি বড় উপাদান হবে। সরকারের জনপ্রিয়তা কমে গেছে– এই কথা বলে আগাম নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের পাঁয়তারা চলবে। কিন্তু জবরদস্তি সরকারদলীয় প্রার্থীদের জেতানোর চেষ্টাও সাধারণ মানুষ সহজভাবে নেবে না।
তবে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলেও বিএনপি যদি আন্দোলনের ডাক দেয়, সেটা কি সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে?
বিভুরঞ্জন সরকার: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
