হাম ঠেকাতে ফের টিকা ক্যাম্পেইন: ৩৪ লাখ শিশুর তালিকা কীভাবে হল?
“আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর্মীরা শিশুদের তালিকা নিয়ে আসতো। এবার শুরু থেকেই তেমন কিছু হয়নি,” বলেন টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী।
টিকা দেওয়ার পরেও হামের প্রকোপ কমছে না; সে কারণে আবার ‘বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন’ শুরু করেছে সরকার, যেখানে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে (মপ-আপ) টিকা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
সে জন্য আগে থেকেই বাদ পড়া শিশুদের তথ্য জানাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) তাদের মাঠপর্যায়ে চিঠি দিয়েছে। নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে ১২ লাখ শিশুর তথ্য পাওয়ার কথা বলেছেন ইপিআই।
যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল ঢাকার কড়াইলে বিশেষ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে বলেছেন বাদ পড়া ২৪ লাখসহ ৩৪ লাখ শিশুকে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগের মতোই ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত বয়সি শিশুরা টিকা পাবে।
তিনি বলেছেন, “আমরা নতুনভাবে আজকে ৩৪ লাখ বাচ্চাকে টার্গেট করেছি। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন করে ছয় মাস বয়সে পৌঁছানো শিশু, বাকি ২৪ লাখ আমাদের আগে বাদ পড়া শিশু।
“৩৪ লাখ বাচ্চাকে আমরা এই ক্যাচ-আপ প্রোগ্রামে আওতাভুক্ত করেছি দেশব্যাপী।”
এ শিশুদের তালিকা কীভাবে করা হয়েছে? টিকার পাওয়ার যোগ্য শিশুরা আবারও বাদ পড়বে না তো? এমন প্রশ্ন ওঠেছে।
এছাড়া যাদের টিকা দিলে হামের সংক্রমণ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আসলেই তারা সবাই টিকা পাবে?
বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, এভাবে টিকা ক্যাম্পেইন করে খুব ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
তাদের দাবি, দেশে যে পরিমাণ শিশুর ইমিউনিটি ঘাটতি রয়েছে তাতে ছয় মাস থেকে অন্তত ১৫ বছর বয়সিদের টিকার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া ব্যাপক জনসচেতনতা প্রয়োজন, যার ঘাটতি হামের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই রয়েছে।
হামে শিশু মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে সরকার ৫ এপ্রিল ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এরপর দুই দফায় টিকা দেওয়া হয়। তিন কর্মসূচিতেই ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুরা টিকা পেয়েছে।
গত ১৪ মে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ‘কাভারেজ’ বা শতভাগ শিশুকে টিকাদান সম্পন্ন হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে।
জাতীয় পুষ্টিপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসারে, গত ২৮ জুন ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে, যাদের বয়স ছয় থেকে ৫৯ মাস।
এ হিসেবে হামের টিকা না পাওয়ার শিশুর সংখ্যা ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯।
সর্বশেষ ২৩ সেপ্টেম্বরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক বুলেটিনে দেখা যায়, সারাদেশের আট বিভাগে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যা কাভারেজের হিসেবে ১১০ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, প্রথম তিন দফায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপর টিকার আওতায় আনা হয়েছে বাদ পড়া আরও ১৪ লাখ শিশুকে।
এবার বাদ পড়া ২৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা করা বলেছেন তিনি। আর নতুন করে ছয় মাস পূর্ণ হওয়া ১০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ কার্যক্রম ২৬ সেপ্টেম্বর শুর হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
টিকার ‘কাভারেজের’ সতত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাম-রুবেলা নির্মূল কার্যক্রম তদারকি কমিটি-ন্যাশনাল ভেরিফিকেশ কমিটি (এনভিসি) চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বর্তমান সরকারের টিকার কাভারেজের যে হার দেখানো হচ্ছে, সেটি সত্য হলে মাঠ পর্যায়ে প্রভাব দেখা যেত। কিন্তু সেটি হয়নি। তাই টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে সততার খুব প্রয়োজন রয়েছে। এটি খুব সূক্ষ্মভাবে দেখতে হয়। যেটি হচ্ছে না হয়তো সেভাবে।”
তিনি বলছেন, “আমরা তথ্য বিশ্লেষণে শুধু নয় মাস থেকে ১২ মাসের বয়সি শিশুদের ডাটা সেটে হামের প্রাদুর্ভাব কমার সূচক দেখেছি। অন্য বয়সভিত্তিক ডেটা সেটে প্রাদুর্ভাব কমার কোনো কিছু সেভাবে দেখা যায়নি। এটি থেকে বলা যেতেই পারে, হয়তো যেভাবে টিকা দেওয়ার কথা সেভাবে দেওয়া হয়নি বা না দিয়েই দেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
“তাই পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নে সততা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আমাদের দেশে কাজের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি খুব পাওয়া যায় না। তাই কঠোর নজরদারি করতে হয়।”
মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য কতটা সঠিক?
ইপিআই ১৩ সেপ্টেম্বর মাঠ পর্যায়ে একটি চিঠি পাঠায়, সেখানে মাঠপর্যায়ের সব কার্যালয়কে নিজ নিজ এলাকার ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি যেসব শিশু হামের টিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের সংখ্যা তিন দিনের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেয়। একটি সার্ভারে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়।
বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেই শুরুর দুই দিন আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদের কাছে জানতে চাইলে তিনি মাঠ পর্যায় থেকে পাঠানো বিভাগওয়ারি শিশুর সংখ্যা বলতে পারেননি।
তিনি বলেন, “আমরা বাদ পড়া শিশুদের খোঁজার নির্দেশ দিয়েছিলাম। প্রায় ১২ লাখ বাদ পড়া শিশুর তথ্য আমরা পেয়েছি।”
তাহলে কীভাবে দেশব্যাপী টিকাদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে? জবাবে ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক হাসানুল বলেন, “দেশের কি পরিমাণ শিশু টিকা পাবে, সেটির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে। আর আমরা মূলত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের হিসাব ধরেই এগিয়ে যাচ্ছি।
“ওই হিসাবে কোন এলাকায় কি ধরনের ঘাটতি রয়েছে সেটার তথ্য পাঠানো হচ্ছে এবং সেই বাদ পড়া শিশুদের মূল টার্গেট ধরে তা পূরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’
তিনি যোগ করেন, “আমাদের প্রতিদিন যেহেতু টিকাদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তাই কোনো একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা ক্যাম্পেইনের জন্য নির্ধারণ করা হয়নি। এছাড়া দীর্ঘদিন টিকা কর্মসূচি চলমান থাকায় অনেকের নতুন করে টিকা নেওয়ার বয়স হয়েছে। আবার অনেকের বয়স অতিক্রম করেছে।”
বরিশাল, কক্সবাজার সদর, রাজধানীর মিরপুর এবং নওগাঁ জেলায় কয়েক জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোনো টিকাকর্মী বাদ পড়া শিশুদের বিষয়ে খোঁজ নেয়নি। তবে কক্সবাজার সদরে মাইকিং করে নতুন টিকাদান কর্মসূচির প্রচার হয়েছে।
ক্যাম্পেইন শুরুর দুই দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তানিশা ইসলাম বলছিলেন, তার ১১ মাস বয়সী শিশু কন্যা টিকা দেওয়া হয়নি। কিন্তু তার বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবরও কেউ নেয়নি।
বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার স্বাস্থ্য সহকারী সোহেল সিকদার বলেন, হাম-রুবেলার টিকা ক্যাম্পেইনের পর যখন প্রকোপ আবারো বেড়ে যায়, তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের তালিকা তৈরি করে জমা দেয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে ২৬ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাইদুর রহমান বলেন, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরা হামের টিকার আওতায় পড়বে। ক্যাম্পেইনের সময় অনেক শিশু বয়সজনিত কারণে বাদ পড়েছে। যাদের বয়স ছয় মাসের বেশি হয়েছে। সেই সকল শিশুদের এবার টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। বাদ পড়া শিশুদের বাসায় বাসায় গিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
২৯ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১২ এলাকার বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সি আব্দুল হাশেম বলেন, “আমার আশেপাশে কারো ফ্ল্যাটে বা বাসায় ইপিআই কর্মীরা আসেননি। টিকাদানের শুরুতে আরও কয়েক মাস আগে একবার মাইকিংয়ে শুনছিলাম। তারপর কি হচ্ছে, কিছু জানি না।”
সম্প্রতি হামলার কারণে আলোচনায় আসা মিরপুর ১ সেকশনের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ‘‘আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীরা আছে, তারাই মূলত বাচ্চাদের বয়স অনুসারে কোন টিকার উপযুক্ত হচ্ছে সেটার খোঁজ রাখে এবং অভিভাবকদের জানায়। তারা এসে কেন্দ্র থেকে টিকা নেয়।”
তবে ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ইপিআই থেকে বাদ পড়া শিশুদের বিষয়ে যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
এ টিকা নিতে আসা অভিভাবক আসমা বেগমও বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে দ্বিতীয় ডোজের বয়স হওয়ায় বাচ্চাকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন তিনি।
অল্প সময়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইপিআইয়ের আরেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাব্বির হায়দার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট্কমকে বলেন, “আমাদের যে কর্মী রয়েছে তাতে তিন দিনে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডগুলোকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা থাকে। এসব জায়গায়, তারা নতুন টিকাদানের সময় প্রয়োজনে খুঁজে বের করে টিকা দেবে।”
তবে এ অল্প সময়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে ইপিআইয়ে পর্যাপ্ত জনবল না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তারা।
টিকা ক্যাম্পেইনের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, “আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর্মীরা শিশুদের তালিকা নিয়ে আসতো। এবার শুরু থেকেই তেমন কিছু হয়নি। বাদ পড়া শিশুদের বের করার জন্য এমন পদ্ধতি অনুসরণের দরকার ছিল, কিন্তু সেটা করা হয়নি।”
এর আগে টিকা ‘কাভারেজ’ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ইপিআই একটি ব্যাখ্যা দিয়েছিল। তারা বলেছিল, ২০২২ সালের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য এবং আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটা লক্ষমাত্রা তৈরি করা হয়েছিল। আর দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইনের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা বা মাইক্রোপ্ল্যান করার জন্য অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় প্রয়োজন হয়।
কত বছর বয়সিদের টিকা দরকার?
ইপিআইয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, নয় মাস বয়সে শিশুরা হাম-রুবেলার প্রথম ডোজ টিকা পায়। এরপর ১৫ মাস বয়সে আবার এক এক ডোজ দেওয়া হয়।
এবার হামের প্রকোপ বাড়লে বয়সের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়। এখন ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুরা টিকা পাচ্ছে।
কিন্তু হামের সংক্রমণ কমার কোনো লক্ষণ নেই। মৃত্যুও ঠেকানো যাচ্ছে না।
চলতি বছরের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও সরকার ১৫ মার্চ থেকে তথ্য প্রকাশ করছে। সরকারি হিসাবেই ২ অক্টোবর পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১৪ জন মারা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ২১ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। হাসপাতালে আসা বেশির ভাগ রোগীরই হাম পরীক্ষা করা হয় না। উপসর্গ দেখে হামের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সরকারের তথ্য বলছে, ছয় মাসের কম এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তাদের টিকার আওতায় আনা বা অন্য কীভাবে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
এ দুই বয়স শ্রেণির শিশুদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলে হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ।
যে কারণে এবারের বিশেষ ট্কিাদান কর্মসূচির সাফল্য নিয়েও তারা সন্দিহান।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এভাবে টিকা দিয়ে হয়তো কিছুটা ফলাফল পাওয়া যাবে। কিন্তু ভালো ফলাফল পেতে হলে পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুদেরও টিকা দিতে হবে।
“এছাড়া ছয় মাসের কম বয়সিদের সুরক্ষার জন্য নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন। কারণ এ ছয় মাসের কম এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সিদের সংখ্যা ছোট নয়, তাই এই দুই গ্রুপের সদস্যদের বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়।”
এর কারণ তুলে ধরে এনভিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ হাম রোগী আছে তার ১০ ভাগের এক ভাগের বয়স ছয় মাসের কম। আর আরেকটা শ্রেণি রয়েছে যাদের বয়স পাঁচ বছরের বেশি। এ দুই বয়স শ্রেণিকে টিকাদানের সিদ্ধান্ত নেই।
তাদের নিরাপদ করতে না পারলে হামের সংক্রমণ থামানো সম্ভব হবে না, বলছেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা বহু আগে থেকে বয়স ভিত্তিক সংক্রমণের হার বিশ্লেষণ করে টিকা এবং যাদের টিকা দেওয়া সম্ভব নয় তাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলে আসছি। কিন্তু কথা শুনলেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “ছয় মাসের কম বয়সিদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, সেজন্য নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেছি। গবেষণার জন্য আইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআর’বি কাজ করছে।”
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, “দেশের যে পরিমাণ মানুষের ইমিউনিটি ঘাটতি রয়েছে তাতে ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি ছয় কোটি মানুষকে টিকা দিতে হবে।”
তিনি বলেন, এমন একটি ক্যাম্পেইন ২০১৪ সালে হয়েছিল, যাতে ৫ কোটির বেশি মানুষ টিকা পেয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এ এন এম বজলুর রশীদকে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
