২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হামের টিকার সংকটের পেছনে নীতি বদলের জটিলতা: সংসদে তথ্য

জুলাই আন্দোলনে আহতের চিকিৎসার কারণে ওই সময় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি, বলা হয় লিখিত জবাবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 08:07 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

টিকা কেনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা ও ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষার কারণে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে হামের টিকার সংকট তৈরি হয় বলে জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে গোপালগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য আসে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন।

লিখিত জবাবে বলা হয়, সঠিক সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ না হওয়া এবং পরে দেশজুড়ে টিকা সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল টিকা কেনার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নীতি পরিবর্তন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করা।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফ ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত হামের টিকা সরাসরি সংগ্রহ করে আসছিল।

কিন্তু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার এই পদ্ধতি পরিবর্তন করে মুক্ত দরপত্রে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।

লিখিত জবাবে বলা হয়, ইউনিসেফ বাংলাদেশের তৎকালীন প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জরুরি জীবনরক্ষাকারী টিকার ক্ষেত্রে মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছিলেন। এতে টিকার সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছিলেন। এ বিষয়ে ইউনিসেফ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। প্রায় ১০টি বৈঠকেও সম্ভাব্য বড় সংকটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। তবে তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা এসব সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি বলে জবাবে বলা হয়। নতুন দরপত্র পদ্ধতি চালুর পর ফাইল ও কাগজপত্রের প্রক্রিয়া প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যায়। আন্তর্জাতিক গুদামে টিকা মজুদ থাকার পরও ঢাকা থেকে সময়মতো চূড়ান্ত অনুমোদন ও অর্থ ছাড় না হওয়ায় টিকার চালান দেশে পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ছয় মাস ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহতদের জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছিল বলেও জবাবে বলা হয়।

লিখিত জবাবে বলা হয়, এর ফলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির জরুরি প্রয়োজনীয়তার দিকে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় টিকাদান কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালে একটি পরিপূরক হাম-রুবেলা বিশেষ ক্যাম্পেইন বাতিল করা হয়।

এর ফলে নিয়মিত টিকাদানের আওতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। পরে দেশের শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক রূপ নেয় বলে লিখিত জবাবে বলা হয়।

জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ স্বাভাবিক হতে ‘২-৩ মাস’

পাবনা-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে বলা হয়, গত তিন বছর চাহিদার তুলনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কিছুটা কম ছিল। এতে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও চিকিৎসা উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ক্রয় প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে।

আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

মেডিকেলে আসন ১১ হাজার ৩৭৮

মাদারীপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের লিখিত জবাবে বলা হয়, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি। আর ৬৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে ৬ হাজার ২৭৮টি। সে হিসাবে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে মোট আসন ১১ হাজার ৩৭৮টি। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ৭১ হাজার ৬৬০টি।

বিভাগীয় ক্যান্সার হাসপাতাল আগামী অর্থবছরে চালুর আশা

সংসদে ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, আটটি বিভাগীয় ক্যান্সার হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ জনবল পদায়নের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যে হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হাসপাতালে অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। প্রতি মাসে সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়াতেও জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনায়

দেশের বিভিন্ন মত ও পথের আলেমদের নিয়ে একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধে পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় ৪০৫২ জন নিহত

দেশে গত ৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জন নিহত এবং ৮০৭ জন আহত হয়েছেন বলে সংসদে জানানো হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ সময়ে ৪৭ হাজার ৬০৬টি নৌযানের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

বর্তমানে ৯ হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহনমন্ত্রী জানান, দেশে প্রথমবার পরিচালিত নৌযান শুমারিতে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।