নাটক, আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে সেলিম আল দীনের জন্মবার্ষিকী উদযাপন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেলিম আল দীনের সমাধিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো
নাটক প্রদর্শনী, পদক প্রদান, সেমিনারসহ নানা আয়োজনে উদযাপন করা হচ্ছে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেলিম আল দীনের সমাধিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ দিনব্যাপী কয়েকটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে রয়েছে, নাটকের গান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং সেমিনার।
একটি অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ পাঠ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধি অভিমুখে স্মরণ-শোভাযাত্রা ও পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
ঢাকা থিয়েটার ও গ্রাম থিয়েটারের চার দিনের উৎসব
সেলিম আল দীনের লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'দেয়াল' নাটকের মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার থেকে ঢাকার মহিলা সমিতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে সেলিম আল দীন ৭৬ জয়ন্তী নাট্যোৎসব। এর আয়োজক ঢাকা থিয়েটার ও গ্রাম থিয়েটার।
সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থিয়েটার প্রবর্তিত তিনটি পদক প্রদান করা হবে। এর মধ্য দিয়ে উৎসবের পর্দা নামবে।
এদিন সেলিম আল দীনের লেখা নাটক ‘নিমজ্জন’ এর প্রদর্শনী রয়েছে। এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
এর আগে উৎসবে সেলিম আল দীনের লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘দেয়াল’ নাটকের তিনটি প্রদর্শনী হয়েছে। নির্দেশনা দিয়েছেন অনিক ইসলাম।
স্বপ্নদলের উৎসব শুরু
দুই দিনব্যাপী ‘নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন জন্মোৎসব ২০২৫’ করছে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল। ‘সেলিম আল দীন-রবীন্দ্রনাথ মোদের শিল্পে রয়, বাঙলা নাট্যের জয়যাত্রা অনন্ত-অক্ষয়’ স্লোগানে সোমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে উৎসবের সূচনা হয়েছে।
যে উৎসব চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।
এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বপ্নদল জানিয়েছে, উৎসবে হরগজ ও চিত্রাঙ্গদার বিশেষ প্রদর্শনী করবে ননাট্য সংগঠনটি। প্রযোজনা দুটির নির্দেশনা দিয়েছেন সেলিম আল দীনের ছাত্র নির্দেশক জাহিদ রিপন।
এ ছাড়া স্মরণ-শোভাযাত্রা, নাট্যাচার্যের সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, নাট্যাচার্যের জীবন-কর্ম-দর্শন নিয়ে আলোচনাও থাকবে।
এদিকেসন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার মিলনায়তনে সেলিম আল দীনের কালজয়ী সৃষ্টি হরগজ–এর ৪৯ তম প্রদর্শনী হবে।
মানিকগঞ্জ জেলার হরগজে ১৯৮৯ সালে সংঘটিত প্রলয়ংকারী টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে সেলিম আল দীন হরগজ রচনা করেন। নাটকটি টর্নেডোর পর উদ্ধারকারী দলের অভিজ্ঞতা ও আকৃতির জগৎ থেকে হঠাৎ নিরাকৃতির জগতে তাদের উপস্থিতি ও পরিণতি নিয়ে আবর্তিত।
মঙ্গলবার সমাপনী দিন সন্ধ্যা ৭টায় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রাঙ্গদার ১১৯তম মঞ্চায়ন হবে।
আরও আয়োজন
সেমিনার, নাটকের মঞ্চায়নসহ দুই দিনের আয়োজন সাজিয়েছে সেলিম আল দীন সংগ্রহশালা। রোববার জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘হেনরিক ইবসেন ও সেলিম আল দীন: প্রতীচ্য, প্রাচ্য নাট্যরূপ ও আধুনিকতা’ বিষয়ক সেমিনার।
পরে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চায়িত হয় বঙ্গলোক-এর প্রযোজনা ‘রূপচান সুন্দরীর পালা’। সোমবার সকালে সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
গাইবান্ধার দারিয়াপুরের সারথি থিয়েটার আয়োজন করেছে তিন দিনের উৎসব। সারথি থিয়েটারের কার্যালয়ে সেলিম আল দীনের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আয়োজন।
এতে থাকছে বৃক্ষরোপন, ভেলায় প্রদীপ ভাসানো, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও নৃত্য। উৎসবের সমাপনী দিন বুধবার হরিপুরের মওলানা ভাসানী ব্রীজ চত্বরে দেখানো হবে হবে পালানাট্য ‘কালিন্দীর গীত’।
এটি নির্দেশনা দিয়েছেন সায়িক সিদ্দিকী। পরিবেশন করবে সারথি থিয়েটার।
বগুড়া থিয়েটার আয়োজন করেছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কাজলরেখা পালার অংশবিশেষ, নাটক পাঠ, বৃন্দ আবৃত্তি, নাটকের গানসহ নানা আয়োজন। বগুড়া থিয়েটার কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে এই আয়োজন হবে।
সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটার হিসেবে চাকরিজীবন শুরু করলেও পরে বাকি জীবন শিক্ষকতাই করেছেন। ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং আমৃত্যু এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ছিলেন।
তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
‘কীত্তনখোলা’, কেরামতমঙ্গল’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘বনপাংশুল’, ‘চাকা’, ‘ধাবমান’, ‘স্বর্ণবোয়াল’, ‘পুত্র’সহ অনেক নাটক রচনা করেছেন।
২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় মারা যান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাকে সমাহিত করা হয়।
