পার্বতী বাউলের জীবনের গল্প এসেছে বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে
পাবর্তী বলেন, “এই কমার্শিয়াল রিলিজের যুগে বাউল সংস্কৃতিকে সরাসরি আখড়া থেকে পর্দা পর্যন্ত নিয়ে আসতে অনেকটা সাহসের প্রয়োজন হয়।”
ভারতের কোচবিহারের মেয়ে মৌসুমী পারিয়াল থেকে পার্বতী বাউল হিসেবে যার পরিচিতি, তার শিল্পী হওয়া গল্প নিয়ে তথ্যচিত্র প্রকাশ হয়েছে।
সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, এসভিএফের প্রযোজনায় তৈরি এই তথ্যচিত্র পরিচালনা করেছেন শুভদীপ গুহ। শুক্রবার বিশ্ব সংগীত দিবসে উপলক্ষে এসভিএফ মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে তথ্যচিত্রটি প্রকাশ হয়েছে শুক্রবার।
তথ্যচিত্র নিয়ে পার্বতী বলেন, “মৌসুমী পারিয়াল থেকে পার্বতী বাউল হয়ে ওঠা এক উত্তরণের গল্প। এই কমার্শিয়াল রিলিজের যুগে বাউল সংস্কৃতিকে সরাসরি আখড়া থেকে পর্দা পর্যন্ত নিয়ে আসতে অনেকটা সাহসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসভিএফ সেই কাজটা করেছে। এসভিএফ মিউজিক আমাকে নিয়ে প্রথম তথ্যচিত্র বানাতে উদ্যোগ নিয়েছে।”
এই তথ্যচিত্র বানানো হয়েছে তিনটি পর্বে। এতে গানের এখানে ৩টি পর্বে মোট ৫টি বাউল গান রয়েছে।'
পরিচালক শুভদীপ গুহ বলেন, “ আগেও আমি এসভিএফ মিউজিকের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু এই কাজটা আমার খুব কাছের। পার্বতীর সঙ্গে কাছ থেকে কাজ করার সুযোগ হল, সেটা আমার সারাজীবনের ভালো অভিজ্ঞতাগুলির মধ্যে একটা হয়ে থেকে যাবে।”
বিশ্বভারতী থেকে ভিজ্যুয়াল আর্ট নিয়ে লেখাপড়া করা পার্বতী ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত ও কত্থক নৃত্যও শিখেছেন। কিন্তু বাউল গানের প্রতি তার ছিল অগাধ টান।
পার্বতী বলেছেন, একদিন কোচবিহার থেকে শান্তিনিকেতনে একটি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ট্রেনে দেখা পান এক অন্ধ বাউলের।
“তার গান মন ছুঁয়ে যায়। সেই গান শুনে বারবার মনে হতে থাকে, এ গান যেন আমাকে কোনো সুদূরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমি যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছি মহাবিশ্বের মাঝে।”
ভিজ্যুয়াল আর্ট নিয়ে পড়ালেখা করার সময় একবার বাউলদের ছবি আঁকার সুযোগ হয়েছিল বলে জানান এই শিল্পী।
“তাদের স্কেচ করতে গিয়েই বাউল সম্প্রদায়ের সঙ্গে, বাউল সঙ্গীতের সঙ্গে আরো একাত্ম হয়ে যাই। আমাদের দেশের বাউল শিল্পী ফুলমালা দাসী, সনাতন দাস বাউল, শশাঙ্ক গোসাঁইয়ের সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়। আর এভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমী হয়ে যান পাবর্তী বাউল।”
তথ্যচিত্রটি প্রকাশের আগে এসভিএফ মিউজিকের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে এর একাধিক গান।
