‘ন্যায়ের পক্ষের’ সুপারম্যানখ্যাত কেইন এখন ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অন্য দেশের মানুষের বসবসের পক্ষে সুপারম্যান চরিত্রের অভিনেতা ডিন কেইন।
তিনি দিনের বেলা শান্ত স্বভাবের বুদ্ধিমান একজন সাংবাদিক আর রাতে অন্যায় রুখে দিতে মরিয়া এক নায়ক, দুর্বলের সহায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেতা ডিন কেইন লাল-নীল রঙা চির পরিচিত ওই পোশাক পরে নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের পর্দায় ‘লুইস অ্যান্ড ক্লার্ক: দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চারস অব সুপারম্যান’ এ সেই নায়ক হয়ে এসেছিলেন। এবং দর্শকমনে শক্ত জায়গাও করে নেন।
সুপারম্যানখ্যাত কেইনের ভাষ্য, এখনো তিনি কাজ করেন ‘ন্যায়ের পক্ষে’। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অন্য দেশের মানুষের বসবসের পক্ষে তিনি নন।
৫৯ বছর বয়সী কেইন কাজ করতে চলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক জেসি ওয়াটারসের টকশোতে হাজির হয়ে এই তথ্য দিয়ে চমকে দেন কেইন।
তিনি বলেন, কর্মজীবনে তিনি রিজার্ভ পুলিশ কর্মকর্তা এবং ডেপুটি শেরফি হিসেবে এক সময়ে কাজ করেছেন।
“আমি আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাকে তাদের টিমে নিতে রাজি হয়েছেন। আইসিই সঠিক কাজ করছে বলে আমি মনে করি। শিগগিরই আইসিইতে একজন অনারারি এজেন্ট হিসেবে শপথ নেব আমি।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার দেশ শাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসী ঠেকাতে আরও কঠোর হয়েছেন।
কেইন ওই অনুষ্ঠানে আরও বলেছেন, ট্রাম্পের গণনির্বাসন পরিকল্পনাকে তিনি সমর্থন করেন।
এর পেছনে যুক্তি তুলে ধরে কেইন বলেন, “আমাদের দেশে একটা নিয়মকানুন আছে। চাইলেই সবাইকে এই দেশে বসবাস করতে দেওয়া যাবে না।”
পৃথিবীতে সুপারম্যানের আগমন নিয়ে কেইনের ভাষ্য, “সুপারম্যান অবশ্যই এক ‘এলিয়েন’। কিন্তু তার আগমনও এক ধরনের শৃঙ্খলার মধ্যে ঘটে।“”
কেইনের এই মন্তব্য ঘিরে সোশাল মিডিয়ায় সমলোচনার ঢেউ উঠেছে।
অভিনেত্রী মার্গারেট চো সরাসরি বলেন, “তোমার নিজের পরিবারের জাপানি ক্যাম্পে বসবাসের অভিজ্ঞতা আছে, তবু কেন এমন সংস্থায় যোগ দিচ্ছ?”
সমালোচনার জবাবে কেইন বলেছেন আইনের শাসনই মূল বার্তা হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ডিন কেইন ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত টেরি হ্যাচারের বিপরীতে ‘লুইস অ্যান্ড ক্লার্ক: দ্য নিউ অ্যাডভেঞ্চারস অব সুপারম্যান’ এ সুপারম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেন।
এরপর অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন রিয়েলিটি শো, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
