২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

সামনে বাংলাদেশের আকাশে সৌভাগ্যের যোগ দেখছেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড চেয়ারম্যান

বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশকেও এখন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলেও সামনের বছরগুলোতে সম্ভাবনা উজ্জ্বল, বলেছেন হোসে বিনয়্যালস।

সামনে বাংলাদেশের আকাশে সৌভাগ্যের যোগ দেখছেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড চেয়ারম্যান

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসে ভিনয়্যালস।

অরুণ দেবনাথ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Dec 2022, 12:29 AM

Updated : 18 Dec 2022, 01:33 PM

বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশও এখন এক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে তা কেটে যাবে; আগামী ৫-১০ বছরে দেশটির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আর ২০২৩ সালটিও এখনকার চেয়ে ভালো হওয়ার লক্ষণই দেখা যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাটি কতটা কাজে লাগাতে পারে, সব কিছু নির্ভর করছে তার উপরই।

এমন পর্যবেক্ষণ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসে ভিনয়্যালসের। এই অর্থনীতিবিদ এর আগে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব স্পেনের ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বও সামলে এসেছেন।

যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে সেগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্বল্প মেয়াদি চ্যালেঞ্জ যেমন বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠতে ঠিক পথেই রয়েছে; যদিও করোনাভাইরাস মহামারী ও রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ সেই পথে কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক এই সংকটের প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে আসায় বাংলাদেশ আইএমএফের কাছ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে।

“বাংলাদেশ ও আইএমএফ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি। প্রত্যাশা মতো যদি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই ঋণ কর্মসূচি নিশ্চিত হয়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য সহায়কই হবে,” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন ভিনয়্যালস। গত বৃহস্পতিবার এই সাক্ষাৎকার দেন তিনি।

“যে কোনো ক্ষত সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগও বটে; তবে দেখতে হবে, সংকটকালে সেটাকে কোন দৃষ্টিতে দেখা হয়। কেননা কখনও কখনও এমন দেখা যায় যে সংকট না থাকার কারণে গভীর সমস্যাও বছরের পর বছর জিইয়ে থাকে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের সামনে এখন সুযোগ এসেছে। কারণ সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বহুমাত্রিক সহায়তা পাচ্ছে।”

ভিনয়্যালসের মতে, এই বিষয়টি আসলেই ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’। আর তা কেবল স্বল্পমেয়াদি বিষয় যেমন- বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; মুদ্রাস্ফীতি ও মধ্যমেয়াদী প্রবৃদ্ধির ভিত্তি প্রতিষ্ঠার জন্যও জরুরি।

আইএমএফের কাছে বাংলাদেশ সরকারের ঋণের অনুরোধে প্রশ্ন উঠেছে, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা মোকাবেলায় দেশের অর্থনীতি তাহলে যথেষ্ট টেকসই কি না?

আইএমএফে কাজ করে আসা ভিনয়্যালসের উত্তর, “আমার মতে, আইএমএফের ঋণ পেতে একেবারে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এর ফলে ঢের দেরি হয়ে যেতে পারত, আর তাতে সমস্যাগুলো আরও গভীর হতে পারত।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, “আমি মনে করি, যেহেতু বিশ্বের দেশগুলো এখন যে সমস্যা দেখছে আর সময়ও যেহেতু হাতে আছে, সব থেকে ভালো হবে কাজ শুরু করে দেওয়া। কারণ এই ধরনের সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়, তখন আপনি সংকটে পড়ে যাবেন। তাই আমি মনে করি, দেরি না করাই সব থেকে ভালো।”

 “সৌভাগ্যবশত, বাংলাদেশিরা একটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে আছে। বিদেশি ঋণের বোঝা কম, বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে গেলেও ঝুলিতে এখনও কয়েক মাস চলার মতো আছে।”

বাংলাদেশের সম্ভাবনার দিক দেখাতে গিয়ে এই অর্থনীতিবিদ যে বিষয়গুলোকে সামনে আনছেন, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধও রয়েছে।

“বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যে পরিবর্তন আসছে, তাতে বাংলাদেশের খুব চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে তা থেকে লাভবান হতে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা কিংবা আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভৌগলিক অবস্থান বাংলাদেশকে সুবিধা এনে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে বুদ্ধিমানের মতো কার্ডটি খেলতে পারবে কি না?”

স্পেনিশ এই অর্থনীতিবিদের মতে, সাম্প্রতিক সংকটকালের মধ্যেও বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সফলতা অর্জনের উদ্যম ও প্রাণশক্তি তিনি দেখছেন।

“সত্যি বলতে কি, মধ্য মেয়াদে বাংলাদেশের এশিয়ার অন্যতম তারকা রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।”

Image

হোসে ভিনয়্যালসে দীর্ঘদিন কাজ করেছে স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে, ছিলেন ডেপুটি গভর্নর

২০১৮ সালে বাংলাদেশে সফর করেছিলেন ভিনয়্যালস। সেই সময়ে অবশ্য কোভিড মহামারী এবং ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব ছিল না। তার ওই সফরের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ওই সময়ের তুলনায় ব্যাংকিংয়ে ডিজিটাল চ্যানেলগুলো পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রতীক হয়ে উঠেছে।

তিনি এ বিষয়ে বলেন, “আজকাল আমাদের গ্রাহকদের জন্য, সব ধরনের গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল চ্যানেলের পরিচিতি অনেক বেশি। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি এমন একটি বিষয় যা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এটি বিশ্বব্যাপী ঘটছে। উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে সাড়া দিচ্ছি, যাতে ক্লায়েন্টদের সেরা ডিজিটাল পণ্য ও সেবা দিয়ে এগিয়ে থাকতে পারি।”

২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশ কমে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে নেমে আসে। আগের অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তার পরবর্তী দুই বছরে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশে পৌঁছায়।

ভিনয়্যালসের মতে, আগামী ৫-৭ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৭ শতাংশ বা তার চেয়ে ‘সামান্য বেশি’ হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার যে প্রত্যাশা করছে, এই পূর্বাভাসও তাই বলছে। তবে এর জন্য সহজ ব্যবসায়িক কার্যক্রম, অর্থনৈতিক সুশাসন শক্তিশালী করা এবং সুশাসন জরুরি।

সুনির্দিষ্টভাবে অর্থনীতির কোন ক্ষেত্রে আইনের শাসনের কথা বলা হচ্ছে- এমন প্রশ্নে ভিনয়্যালস বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আমি যেতে চাই না। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে কেবল বলতে চাই, টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত আইনের শাসন শক্তিশালী করা।”

সাম্প্রতিক বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ঋণে অনিয়মসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতেও দৃশ্যত দ্বিধাগ্রস্ত দেখাল এই অর্থনীতিবিদকে। এ সংক্রান্তও প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে তিনি বলেন, তিনি শুধু তার ব্যাংকের বিষয়েই বলতে পারেন।

এক নজরে
  • ২০১৬ সালের অক্টোবরে ভিনয়্যালস স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড পিএলসিতে যোগ দেন, ডিসেম্বরে গ্রুপ চেয়ারম্যান হন। তিনি গভর্নেন্স এবং নমিনেশন কমিটিরও সভাপতিত্ব করেন।

  • তিন বছর পর ২০১৯ সালের এপ্রিলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তিনি। খুব সম্প্রতি আইএমএফের ফিন্যান্সিয়াল কাউন্সেলর এবং মনিটারি অ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর ছিলেন। আইএমএফের  আর্থিক খাতের কাজের তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতাসহ আর্থিক বিষয়ে আইএমএফের প্রধান মুখপাত্র ছিলেন।

  • আইএমএফের আগে ভিনালস স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ ও ফ্যাকল্টি মেম্বার হিসেবে কাজ করেন। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব স্পেনে অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৮৬ সাল থেকে ২০ বছর। ডেপুটি গভর্নর হিসেবে অবসর নেন তিনি।

Image

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান হোসে ভিনয়্যালস দেখছেন বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা

বাংলাদেশে কীভাবে বিনিয়োগ?

ভিনয়্যালস বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক তার গ্রাহকদের সঙ্গে সেবা ও পরামর্শ প্রদানে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যা এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয়। কারণ ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের খুব কাছাকাছি থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন তারা সমস্যায় পড়ে যায়।

“আমরা আমাদের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে থেকে সমৃদ্ধ হই, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্লায়েন্ট রয়েছে আমাদের, যা বাংলাদেশের সমৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি মনে করি, এভাবে আমরা একটি অবদান রাখতে পারি।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড টেকসই অর্থায়নকে তার ব্যাংকিং কৌশলের মূল স্তম্ভে পরিণত করেছে বলে জানান ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ভিনয়্যালস।

“আমরা মনে করি, এটি শুধু সঠিক কাজই নয়; ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও একটি স্মার্ট বিষয়। কারণ টেকসই ধারণার সঙ্গে অসাধারণ বাণিজ্যিক সুযোগ রয়েছে।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গত বছর পরিবেশগত, সামাজিক এবং শাসনের মানদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ১৬টি নতুন টেকসই আর্থিক পণ্য চালু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনে ৩০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে।

ভিনয়্যালস বলেন, “সেই অর্থের অনেকটাই উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে যাবে, কারণ সেখানেই বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

“এই দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে বেশি প্রভাবিত হয়। বাংলাদেশের কথা বললে, বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে এর খুব সামন্যই অবদানই রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেখবে অসমভাবে।”

বিশ্বায়ন

রাজনৈতিক অর্থনীতিতে বহুল আলোচিত পরিভাষা বিশ্বায়ন নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বায়ন প্রক্রিয়াটি ‘যথাযথভাবে’ এগিয়ে নেওয়া দরকার। কেননা বিশ্বায়নের ফলে মানুষের আয়ের স্তর উন্নত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্বায়নের সমালোচকদের তিনি বলেন, এর ফলে অনেক দেশে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তার অনেক সমস্যা ‘নিজ দেশেই তৈরি’। আর এজন্য বিশ্বায়নকে ঢালাওভাবে দোষ না দিতেও বলেছেন তিনি।

“আমি একমত যে বিশ্বায়নকে আরও উন্নত করা যেতে পারে। একে আরও ন্যায়সঙ্গত, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যেতে পারে। বিশ্বায়নের সুবিধা বা লাভ থেকে কেবল কয়েকজন উপকারভোগী হয় না, অনেকে অথবা প্রত্যেকেই এর সুবিধা পায়।”

“এটা ভুলে গেলে চলবে না যে বিশ্বায়নের কারণেই হয়ত বিশ্বের প্রবৃদ্ধি হার এত দ্রুত বেড়েছে। মাথা ব্যথা হলেই আপনি মাথা কেটে ফেলে দিতে পারেন না,” বলেন হোসে ভিনয়্যালস।

Image

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ হোসে ভিনয়্যালস কাজ করেছেন আইএমএফেও

২০২৩ সাল কী ভালো যাবে?

ভিনয়্যালস বলেন, তারা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অর্থনৈতিক ও অ-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চলকগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশের ঋণযোগ্যতা সম্পর্কে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছেন।

“বলতে চাই, মুডিস বা অন্যান্য রেটিং এজেন্সি যা করেছে বা ভবিষ্যতে করবে, সেগুলো আমরা আগ্রহের সঙ্গে দেখি। কিন্তু আমাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও আছে। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর ইঙ্গিত বা আভাস দেখা যে, বাংলাদেশ তার অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে চলেছে এবং উচ্চ টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে ।“

তার ভাষ্য, আগামী জানুয়ারিতে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন হলে এবং অর্থনৈতিক মন্দা কমে গেলে ২০২৩ সাল একটি ভালো বছর হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে যাবে।

  • ইংরেজি থেকে ভাষান্তর করেছেন ফারুক হোসেন

পুরনো খবর:

অর্থনীতির দশায় আতঙ্ক নয়, দরকার সতর্কতা: স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সিইও