০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আইপিসির বিশ্লেষণ: দেশে দেড় কোটির বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়

আইপিসির বিশ্লেষণ বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, দেশের কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

আইপিসির বিশ্লেষণ: দেশে দেড় কোটির বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়
স্বল্পমূল্যের খাদ্যপণ্যের আশায় টিসিবির ট্রাকের সামনে ভিড়। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 08:53 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

বাংলাদেশে ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে উঠে এসেছে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) বিশ্লেষণে।

চলতি বছরের শেষ দিকে এই সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আইপিসি আভাস দিয়েছে।

বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইপিসির বিশ্লেষণ তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৬ সালের মে থেকে অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে এ বিশ্লেষণের আওতাভুক্ত জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১ কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার (আইপিসি ফেজ ৩ বা তার বেশি) মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের (আইপিসি ফেজ ৪) খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।

সম্প্রতি ঢাকায় একটি কর্মশালায় এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওই কর্মশালার আয়োজক ছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, সেইভ দ্য চিলড্রেন এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)।

আইপিসি বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এ সময় তীব্র

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৮১ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন।

“পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, দেশের কয়েকটি উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরূপ আবহাওয়া, বন্যা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং অর্থনৈতিক চাপ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে কোটি কোটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার তথ্য-প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। 

“আইপিসির এই ফলাফল আমাদের সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করতে সহায়তা করবে।”