০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মুগ্ধতা ছড়ালো চিকিৎসকের ক্যামেরায় পাখির মোহনীয় ভঙ্গি

তার আগে ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে দুটি এবং চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে চারটি যৌথ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Nov 2025, 09:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:12 PM

ক্ষিপ্রগতির পরিযায়ী আগুনে বাজ আর বিরল চিতিপেট হুতুম পেঁচার সঙ্গে গভীর বনের কাঠ ময়ূর, বিপন্ন পাকড়া ধনেশ, হোগলা বনের বাসিন্দা লাল টুপি ছাতারে-এ যেন পাখিদের মিলন মেলা। 

একজন চিকিৎসকের ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া এসব পাখির মোহনীয় ভঙ্গি আর চাহনি শুক্রবার ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের মনে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছে।

‘হুইসপারস অব বার্ডস’ শীর্ষক একক এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ শামীম হাসানের তোলা ৩০ প্রজাতির পাখির ছবি।

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ ডেবার পাড় মসজিদ গলিতে ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের অ্যাট্রিয়াম হলে হয়ে গেল এই প্রদর্শনী। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চট্টগ্রামের সভাপতি এম সাইফুল ইসলাম বলেন, পেশায় চিকিৎসক শামীম হাসান দীর্ঘদিন ধরে সুকুমার বৃত্তির চর্চা করেন। তিনি কবি ও আলোকচিত্রী। শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে তার রয়েছে একাধিক বই। শামীম হাসানের কবিতার বইয়ের সংখ্যা পাঁচটি। এটি তার প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। 

ডা. শামীম হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১৬ বছর ধরে ৫০০ প্রজাতির পাখির ছবি তুলেছেন তিনি। ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে দুটি এবং চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে চারটি যৌথ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। 

“এটি আমার প্রথম একক পাখির ছবির প্রদর্শনী।” 

তিনি বলেন, ৩০টি প্রজাতির পাখির বাছাই করা ছবি নিয়ে এই প্রদর্শনী। মূলত সহযোগী ‘বার্ড ফটোগ্রাফারদের’ অনুপ্রেরণায় আজকের আয়োজন।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের স্থানীয় পাখিদের সঙ্গে ঠাঁই হয় অতিথি পাখিদের আলোকচিত্রও। এসব পাখির সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে দর্শনার্থীদের।

বিকাল থেকে প্রদর্শনীতে নানা বয়সী মানুষ ভিড় করেন। নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মুখে প্রশংসাও ঝরেছে।

কামরুল হাসান নামে একজন দর্শনাথী বলছিলেন, “আমাদের দেশে এখনো নানা প্রজাতির পাখি আছে। এখানে একসাথে অনেক পাখির ছবি দেখার সুযোগ হল। 

“আমরা সবাই সচেতন হলে প্রকৃতি ও পাখিদের রক্ষা করা সম্ভব হবে। এরকম প্রদর্শনী সবাইকে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় অনুপ্রাণিত করবে।” 

প্রদশর্নীতে ছিল কমলা বউ, গয়ার, বাসন্তী লটকন টিয়া, নীল শিলাদামা, লালগলা ফিদ্দাসহ বিচিত্র সব পাখির আলোকচিত্র। 

নজর কেড়েছে সহেলী, পাকড়া ধনেশ, খয়রাপাখ পাপিয়া, লাল মাথা কুচকুচি, মেটেটুপি বাটকুড়ালি, কালোঘাড় রাজন, গয়ার, বাসন্তী লটকন টিয়া, শ্যামা, পাহাড়ী ময়না, দুধরাজ, লালগলা ফিদ্দা, লালঝুঁটি ভুতিহাঁস ও উত্তুরে খুন্তে হাঁসের ছবি।