২ দশক পেরিয়ে কর্ণফুলী ইপিজেড
বেপজার উদ্যোগে ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করে এ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা।
পথচলার দুই দশক পূর্ণ করেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)।
বন্ধ হয়ে যাওয়া চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেডের জায়গাতেই বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) উদ্যোগে ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করেছিল এই ইপিজেড।
দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে বেপজার আয়োজনে শনিবার পতেঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, “কর্ণফুলী ইপিজেড কেবল গার্মেন্টসেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৈচিত্র্যময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গার্মেন্ট ছাড়াও এখানে সাইকেল, ব্যাগ, ফার্নিচার ও তাঁবু উৎপাদন হয়।
“দেশের মধ্যে এটিই একমাত্র ইপিজেড, যেখানে ফার্নিচার শিল্প গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি তাঁবুর অ্যাকসেসরিজ, সেফটি সু ও ফ্যাশন সু উৎপাদন করে কর্ণফুলী ইপিজেড বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।”
কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, “কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে প্রথম রফতানি শুরু হয় ২০০৭ সালের নভেম্বরে। পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লিমিটেডের হাত ধরে শুরু হওয়া রপ্তানি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৯ মিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। দুই দশকের ব্যবধানে সেই রপ্তানি এখন ছাড়িয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের অগাস্ট মাস শেষে কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে মোট ১৪ দশমিক ১৫৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে।”
বর্তমানে কর্ণফুলী ইপিজেডে ৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ মালিকানাধীন এবং আটটি দেশিয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এখানে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলংকা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, মালয়েশিয়া ও কানাডার বিনিয়োগকারী রয়েছেন।
১৯৬৭ সালে চিটাগাং স্টিল মিলস প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে এর অভ্যন্তরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর ১৯৯৮ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে লে-অফ ঘোষণা করা হয়।
১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চিটাগং স্টিল মিলস লিমিটেড (সিএসএম) এর কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়।
চিটাগং স্টিল মিলসের জায়গায় ইপিজেড স্থাপনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্টিল মিলসকে চট্টগ্রাম ইপিজেডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টিল মিলের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০০৪ সালে দুই ধাপে স্টিল মিলের জমি বেপজার কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ধাপে ৭৪ একর এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৪৮ দশমিক ৪২ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। ফলে বিলুপ্ত চিটাগং স্টিল মিলসের পুরো জমিই বেপজার কাছে চলে আসে।
২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কেইপিজেডের উদ্বোধন করেন।
বর্তমানে এই ইপিজেডে ২৫৮টি শিল্পপ্লট রয়েছে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। এছাড়া পাঁচটি স্ট্যান্ডার্ড ফ্যাক্টরি ভবনের মোট ফ্লোর স্পেস ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার। এসব প্লট ও ভবন ইতিমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
কেইপিজেডের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মো. খালেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় শনিবারের অনুষ্ঠানে কর্ণফুলী ইপিজেডের দুই দশকের বিনিয়োগ, রপ্তানি, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বেপজার নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ।
সভায় কর্ণফুলী ইপিজেডের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন বেপজার সদস্য (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন) মো. তানভীর হোসাইন।
