২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

আন্দোলনে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ১১ মাস পর মামলা

একটি মামলায় প্রয়াত এক মুক্তিযোদ্ধাকে আসামি করা হয়েছে।

আন্দোলনে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ১১ মাস পর মামলা
ফাইল ছবি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2025, 08:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:18 PM

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার ১১ মাস পর সাবেক মন্ত্রী ও মেয়রসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের আসামি করে দুটি হত্যা মামলা হয়েছে।

নগরীর কোতোয়ালী থানায় সোমবার মাঝরাতে দুই শিক্ষার্থীর বাবা মামলাগুলো করেন।

এর মধ্যে একটি মামলায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র এবং নগর আওয়ামী লীগের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত দেবাশীষ গুহ বুলবুলকে আসামি করা হয়েছে। অমল মিত্র ২০২৩ সালের ৭ মে মারা গেছেন। আর দেবাশীষ গুহ মারা গেছেন ২০২১ সালে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী হলেন- বেসরকারি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাউছার মাহমুদ এবং বাকলিয়ার একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন।

তাদের মধ্যে কাউছার ২০২৪ সালের ৪ অগাস্ট নিউ মার্কেট মোড়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ নভেম্বর ঢাকা সিএমএইচ হাসপাতালে এবং নিজাম উদ্দিন ৫ অগাস্ট দুপুরে নগরীর লালদিঘী এলাকায় নিহত হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

কোতোয়ালী থানার ওসি আবদুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, একটি মামলায় ৯১ জন ও আরেকটিতে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুটি হত্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে। আরও আসামি করা হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে।

বিজিসি ট্রাস্টের শিক্ষার্থী কাউছার হত্যা মামলায় তার বাবা আবদুল মোতালেবের মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৪ অগাস্ট নিউ মার্কেট মোড়ে সমাবেশে হামলা হয় কাউছারের ওপর। সেখান থেকে তার বন্ধুরা তাকে আগ্রাবাদ ইসলামীয়া হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৩ নভেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়।

এতে ৯১ জনের নাম দিয়ে এবং নাম না দিয়ে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় হাছান মাহমুদ, নওফেল, নাছির ছাড়াও সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, সাবেক সিটি মেয়র রেজাউল করিম, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে আসামি করা হয়েছে। 

তাছাড়া মামলার ৫৮ নম্বরে রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য প্রয়াত অমল মিত্রের নাম। আর মামলার ৫৫ নম্বরে রয়েছে প্রয়াত দেবাশীষ গুহের নাম।

মামলায় আসামির তালিকায় নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের আসামির তালিকায় রাখা হয়। এতে কারও কারও নাম একাধিক রয়েছে।

নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির নাম দেওয়া হয়েছে ১৫ নম্বর আসামি হিসেবে। ৪১ নম্বরেও রয়েছে তার নাম। সেখানে তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ নামে আওয়ামী লীগের কোনো সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না কখনও।  

অপরদিকে ১৮ ও ১৯ নম্বরে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের নাম দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ৬৯ ও ৭০ নম্বরে তাদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে নগর আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে। 

আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহরলাল হাজারির নাম দেওয়া হয়েছে আসামি তালিকার ২৪, ৪২ ও ৫৭ নম্বরে। বাগমনিরাম ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনের নাম রয়েছে ৪৩ নম্বরে। আবার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ৪৫ নম্বরেও আছে তার নাম।  

এছাড়া নগর যুবলীগের সাবেক সভাপতি চন্দন ধরের নাম আছে ১৪ ও ৫২ নম্বরে। একইভাবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের নাম আছে ১৩ ও ৫৩ নম্বরে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবুর নাম রয়েছে ৩৬ ও ৭৩ নম্বরে। 

অপরদিকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন হত্যা মামলায় তার বাবা শাহাব উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, ৫ অগাস্ট দুপুরে লালদিঘী পাড় এলাকায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা হামলা চালান। 

এ হামলায় নিজাম উদ্দিন, আহত হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিজ বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।