গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ: সাব পোস্ট মাস্টারকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা জরিমানা
দণ্ডপ্রাপ্ত এহছানুল হক কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা সংগ্রহ করে তা জমা করেননি।
গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামে এক সাব পোস্ট মাস্টারকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিকে তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে
সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন বলে তথ্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম রনির।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত এহছানুল হক বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ও চরণদ্বীপ সাব পোস্ট অফিসে দায়িত্বপলনরত অবস্থায় বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা সংগ্রহ করে তা জমা করেননি।
“এ অভিযোগে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই বোয়ালথালী থানায় এহছানুলের বিরুদ্ধে পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ মামলা করেন। মামলার ধারাটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের শিডিউলভুক্ত হওয়ায় তা দুদকে পাঠানো হয়। রাষ্টপক্ষের ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্য ও আসামির সাফাই সাক্ষী শেষে আদালত এহছানুল হককে ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেন।
“তবে তিনি এ জরিমানা পরিশোধ করতে না পারলে তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় এহছানুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যেহেতু তিনি এখনো জরিমানার টাকা পরিশোধ করেননি তাই, সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।”
মামলার নথির তথ্য বলছে, সাব পোস্ট মাস্টার এহছানুল হক ২০১২ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত বোয়ালথালী উপজেলার শাকপুরা সাব পোস্ট অফিসে এবং ২০১৫ সালের ৩ অগাস্ট থেকে ওই বছরের ১৬ মে পর্যন্ত চরণদ্বীপ সাব পোস্ট অফিসে কর্মরত ছিলেন।
দুই পোস্ট অফিসে দায়িত্ব পালনের সময় এহছানুল হক গ্রাহকের কাছ থেকে জমা নেওয়া ২১ লাখ ১১ হাজার ৪০০ টাকা গ্রাহক পাস বইতে লিপিবদ্ধ করলেও পোস্ট অফিসের জার্নাল বইতে লিপিবদ্ধ না করে আত্মসাৎ করেন।
পরবর্তীতে তিনি দুই পোস্ট অফিস থেকে আত্মসাৎ করা ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা সরকারি অশ্রেণি খাতে চালানমূলে পরিশোধ করেন।
তবে এখনো এহছানুল হকের কাছে মোট ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা পাওনা পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষের।
এ মামলা দুদকে স্থানান্তরের পর সংস্থার সহকারী পরিচালক নাসরিন সুলতানা ২০১৭ সালের ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। একই বছরের ১১ অক্টোবর আদালত অভিযোগ গঠন করে।
