পরিবার ছিল সন্তানের খোঁজে, লাশ পড়েছিল মর্গে
কোচিং শেষে পাঁচ বন্ধু মিলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন শান; সেখানে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হলেও বন্ধুরা সেটি গোপন রেখেছিল, বলেন হালিশহর থানার ওসি।
চট্টগ্রামে কিশোর স্কুলছাত্রের খোঁজে তার পরিবার যখন হন্য হয়ে ঘুরছিল, সেই মুহূর্তে তার লাশ পড়েছিল হাসপাতালের মর্গে।
পতেঙ্গা থানা পুলিশ সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান নামে ১৫ বছরের সেই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে দুদিন আগেই; পরিচয় শনাক্ত করতে না পেরে পুলিশও স্বজনদের অপেক্ষায় ছিল।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দিয়ে লাশ শনাক্ত করেন স্বজনরা।
শান হালিশহর এলাকার চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। সন্দ্বীপ উপজেলায় বাড়ি হলেও পরিবারের সঙ্গে থাকতেন হালিশহর চুনা ফ্যাক্টরি এলাকায়।
পুলিশ বলছে, বন্ধুদের সঙ্গে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়ে সাগরে নিখোঁজ হন শান। তবে বন্ধুরা সেই ঘটনা ‘গোপন রাখেন’। এরই মাঝে শানকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে একটি চক্র ৬০ হাজার টাকাও হাতিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় শানের চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পতেঙ্গা থানার ওসি মো. পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে আমরা এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করি। তবে কোনো স্বজনের সন্ধান পাচ্ছিলাম না। এ কারণে ময়নাতদন্ত না করে আমরা লাশটি মর্গে রেখে দিয়েছিলাম।
“রোববার পুনরায় তার ছবি প্রচার করি। সোমবার আমরা লাশের পরিবারের খোঁজ পাই।”
শানের মামা সাফায়েত হোসেন বলেন, “শনিবার থেকে শান নিখোঁজ ছিল। তার বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম, কিন্তু তারা বলেছিল তাদের সঙ্গে সৈকতে বেড়াতে হালিশহর বি ব্লকে এসেছিল শান। তাকে খুঁজে না পেয়ে ওই দিন রাতে আমরা হালিশহর থানায় জিডি করেছিলাম।
“গতকাল (সোমবার) রাতে হালিশহর থানায় শানের সঙ্গে পতেঙ্গা বেড়াতে যাওয়া তার অপর চার বন্ধুকে ডেকে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেসময় তারা পুলিশকে জানায়, তিন বন্ধু মিলে তারা সৈকতে নেমেছিলেন। দুই জন উঠে আসলেও শান পারেননি।”
সাফায়েত বলেন, “তাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আমরা হালিশহর থানার মাধ্যমে পতেঙ্গা থানায় যোগাযোগ করে সৈকত থেকে লাশ উদ্ধারের তথ্য পাই। আজ (মঙ্গলবার) সকালে মর্গে গিয়ে শানের লাশ শনাক্ত করি ও দুপুরে লাশ গ্রহণ করি।”
হালিশহর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত ১৫ অগাস্ট শান কোচিং শেষে পাঁচ বন্ধু মিলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়। তবে তার বন্ধুরা সেটি গোপন রেখেছিলেন।
“এ ঘটনায় চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি আসলে কী হয়েছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে কীভাবে শানের মৃত্যু হয়েছে।”
‘শানকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা’
শানের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, শানকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এর মধ্যে রোববার সকালে শানের বাবার নম্বরে ফোন করে ‘ছেলেকে জীবিত ফেরৎ পেতে’ এক ব্যক্তি ১ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা নিয়ে ষোলশহর এলাকায় যেতে বলেন।
শানের জ্যাঠা মো. গোফরান বলেন, “ষোলশহর এলাকায় শান আছে শুনে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানাই এবং পুলিশ নিয়ে সেখানে যায়। এর মাঝে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়, তারা সরাসরি টাকা গ্রহণ করবেন না। বিকাশে পাঠাতে হবে।
“একথা শুনে তার মামা বিকাশে ৬০ হাজার টাকা পাঠালে মোবাইলটি বন্ধ করে রাখা হয়।”
হালিশহর থানার ওসি কাজী সুলতান বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে শানের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতারক চক্র সুযোগ নিয়েছে। কারা এ টাকা নিয়েছে, সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।”
