বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখেই চট্টগ্রামে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি
বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে চট্টগ্রামের প্রধান ঈদ জামাত হবে।
ঈদের দিন বৃষ্টি হতে পারে এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীয় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি পরিদর্শনে গিয়ে এমন তথ্য জানালেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
সোমবার শেষ বিকেলে এবং মঙ্গলবার সকালে নগরীতে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে। সকালের বৃষ্টিতে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গনের শেষ সীমার কিছু অংশে পানি জমে যায়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সেসব পরিষ্কার করে ওই অংশেও শামিয়ানা টাঙানোর কাজ করতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও সকাল ৭টায় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে চট্টগ্রামের প্রধান ঈদ জামাত হবে। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়।
“আমাদের ঈদ জামাত প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। কিছু কাজ এখনো বাকি। সে কাজগুলো শেষের দিকে। এটি প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুটের জায়গা। বৃষ্টি পড়লেও যাতে মুসল্লিদের কোনো ধরণের কষ্ট না হয় সেজন্য শামিয়ানা এবং ত্রিপল দেওয়া হবে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “আবহাওয়ার যে পূর্বাভাস, আরো চার-পাঁচ দিন এভাবে বৃষ্টি হবে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে, ঈদের দিন বৃষ্টি হবে। সেই প্রস্তুতি নিয়েই এখানে ত্রিপল থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখছি, যাতে বৃষ্টি হলেও মুসল্লিরা কোনো ধরনের কষ্টের মধ্যে না পড়েন।”
জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদ জামাতের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামরা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে জানিয়ে মেয়র বলেন, “তিনটা বড় গেইট ও দুটো ছোট গেইট খোলা থাকবে, যাতে সবাই সহজে প্রবেশ ও বের হতে পারেন।”
প্রতি বছরের মত এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ এই জামাতে অংশ নেবেন আশা প্রকাশ করে মেয়র বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাঠে নামাজ পড়তে না পারলে মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ঈদ উল আযহার প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর আরও নয়টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত হবে।
মসজিদগুলো হল— লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রা.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ (সাগরিকা স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।
