‘জাল কাগজপত্রে’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩ কোটি টাকার পণ্য খালাস
বন্দরের এনসিটিতে মে মাসে ৬৮৮ বেল কাপড় ভর্তি কন্টেইনারটি খালাস হয়েছিল।
আমদানি করা প্রায় তিন কোটি টাকার কাপড়ভর্তি একটি কন্টেইনার জাল কাগজপত্র জাল ও সই নকল করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ওই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর বুধবার দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। গত মে মাসে বন্দর থেকে নিয়ে যাওয়া সেই কন্টেইনার ও পণ্যের হদিস এখনও মেলেনি।
বুধবার এ ঘটনায় আটক হওয়া দুজন হলেন- চট্টগ্রামের পটিয়ার মো. মোর্শেদ আলম (৩১) এবং পিরোজপুরের মো. সাইদুর রহমান (৫১)। তারা দু’জন একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী।
মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) আমদানি করা ৬৮৮ বেল ফেব্রিক্স ভর্তি ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনারটি খালাস করা হয়।
পরে গত সপ্তাহে আমদানিকারকের পক্ষের ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান কন্টেইনারটি খুঁজে না পেয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি সামনে আসে। এরপর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
তদন্ত কমিটি বন্দর থেকে পণ্যভর্তি কন্টেইনার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আটক দু’জনের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাদের আসামি করে থানায় মামলা করে।
কিন্তু এ চক্রে আরও কারা সম্পৃক্ত সে বিষয় এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।
সাভারের কালিয়াকৈর এর রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের জন্য এসব কাপড় আনা হয়। আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট।
সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি কন্টেইনারটি খালাসের জন্য ২২ অগাস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। এরপর প্রয়োজনীয় রাজস্ব পরিশোধ করে কন্টেইনার খালাসের জন্য গেলে আর সেটির হদিস মেলেনি।
কন্টেইনার খুঁজে না পেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানটি।
এসআরএস সিন্ডিকেটের স্বত্ত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কন্টেইনারটি আগে এলেও এর কাগজপত্র পেতে কিছুটা সময় লাগে। তাই বিল অব এন্ট্রি দাখিলে কিছুদিন দেরি হয়।
“২২ অগাস্ট আমরা বিল অব এন্ট্রি দাখিল করি। তারপর আর কোথাও কন্টেইনার খুঁজে পাই না। কিন্তু সিটিএমএস (কন্টেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এ কন্টেইনারের অবস্থান এখনো বন্দরের ভিতরেই দেখাচ্ছে।”
মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “চেয়ারম্যানের বরাবরে লিখিত আবেদন করার পর একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু সেই কমিটিতে কারা আছে বা তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কিনা আমরা জানি না।”
জাল কাগজপত্র জমা দিয়ে কন্টেইনার খালাস করে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এখন শুনছি ১১ অগাস্ট কন্টেইনার নিয়ে গেছে। এটা কীভাবে হয়েছে তা যাচাই করা উচিত। বেড়া দেওয়া হয় ক্ষেত বাঁচানোর জন্য। বেড়ায় যদি ক্ষেত খায় কি করবেন।
“আমরা যদি কখনো ছোটখাটো কোন ভুল করে কাগজ জমা দিই, আমরাতো পণ্য ছাড় করাতে পারি না। তাহলে পুরো জাল কাগজে কিভাবে কন্টেইনার নিয়ে যেতে পারে?”
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তদন্ত কমিটি যাদের সম্পৃকত্তার কথা বলছে তাদের সঙ্গে আরো কারা জড়িত আছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। যাদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বন্দর বিভাগের উপ-কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা জড়িত। এর পেছনে কে বা কারা আছে সেটা অনুসন্ধান চলছে। নেপথ্যে একটা চক্র আছে। এটা রিলিজ করার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগে সেগুলো জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে তারা সাবমিট করেছে।”
তিনি বলেন, “যাচাই বাছাই করে বলতে হবে আসলে কী ঘটেছে। অনুমান নির্ভর কিছু বলতে চাই না। তদন্ত শেষে বলতে পারব কি ঘটেছে।”
বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বন্দরের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেছে।”
