‘ভারতকে হারাতে না পারলে কেউ বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’
বিশ্বাসের মন্ত্রে ট্রফির ছবি আঁকছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান কোচ ও দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি।
ইডেন গার্ডেন্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ড্যারেন স্যামি- খুব পরিচিত তিনটি নাম। বছর দশেক আগে কলকাতার বিখ্যাত এই মাঠেই স্যামির নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরোপা উল্লাস করেছিল, দ্বিতীয়বারের মতো জিতেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই আঙিনায় তারা শুরু করতে যাচ্ছে আরেকটি আসর। এখন যদিও বদলে গেছে স্যামির ভূমিকা। তখনকার শিরোপা জয়ী অধিনায়ক এবার থাকবেন ডাগআউটে। তবে বিশ্বাসটা তার রয়ে গেছে আগের মতোই, যে বিশ্বাসের মন্ত্রে ট্রফির ছবি আঁকছেন ক্যারিবিয়ানদের প্রধান কোচ।
একই সঙ্গে প্রতিটি দলের জন্য একটি সতর্কবার্তাও দিলেন স্যামি- ট্রফি জিততে হলে আসরের ফেভারিট ও সহ-আয়োজক ভারতকে হারাতে হবে নকআউট পর্বে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিন শনিবার স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচটি তাদের খেলার কথা ছিল মূলত বাংলাদেশের বিপক্ষে। কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দল ভারতে যেতে রাজি না হওয়ায়, তাদের জায়গায় সুযোগ দেওয়া হয় স্কটল্যান্ডকে।
পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে বিশ্বকাপে বাজি ধরার লোক হয়তো খুব বেশি পাওয়া যাবে না। তবে ইডেন গার্ডেন্সে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে স্যামি বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই ভারতে পা রেখেছেন তারা।
“আমরা যদি বিশ্বাস না করতাম যে, জিততে পারব, তাহলে আমরা এখানে থাকতাম না। আমি জানি এটি ১০ বছর আগের একই পরিস্থিতির মতো, যখন সবকিছু আমাদের বিরুদ্ধে ছিল, আমাদের ওপর কারো আস্থা ছিল না। আমি ছেলেদের এবং ড্রেসিং রুমে আমাদের প্রতিভার সামর্থ্যের দিকে তাকিয়ে আছি।”
“আমরা জিততে চাই। আমাদের একটা ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে হবে।”
এর জন্য কী করতে হবে, সেটাও ভালো করেই জানেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক স্যামি।
“একটি বিষয় আমি নিশ্চিতভাবে জানি, হয়তো অন্য দলগুলোও তা জানে, ঠিক যেমনটা ছিল ২০১৬ সালে। সেবার যখন আমরা এখানে এসেছিলাম, তখন আমরা একটি প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলাম, তারপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।”
“এরপর আমরা আলোচনায় বসেছিলাম- সিনিয়র খেলোয়াড়রা, সেই সময়ের কোচ ফিল (সিমন্স), আমরা সবাই বলেছিলাম: এই বিশ্বকাপ জিততে হলে ভারতকে হারাতে হবে।”
সেবার সেমি-ফাইনালে ভারতকে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল তারা শেষ ওভারে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের টানা চার ছক্কায়, যা অমর হয়ে গেছে ক্রিকেটের রোমাঞ্চকর গল্পগাঁথায়।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ী ভারত গত কয়েক বছর ধরে যে ধরনের আগ্রাসী ক্রিকেট খেলছে, তাতে এবার আরও বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন স্যামি।
“এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ। কেউ যদি ভারতকে হারাতে না পারে, তাহলে তারা এই বিশ্বকাপ জিততে পারবে না, নকআউট পর্বে ভারতকে হারাতে হবে, সেটা সেমি-ফাইনাল হোক বা ফাইনাল। তারা ফেভারিট এবং ভারতকে তাদের মাঠে হারাতে হলে প্রতিটা দলকে সত্যিই খুব ভালো খেলতে হবে।”
