২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ব্রুকের অনন্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে খাদের কিনারায় ঠেলে সেমিতে ইংল্যান্ড

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড এগিয়ে গেল ৪-০ ব্যবধানে।

ব্রুকের অনন্য সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে খাদের কিনারায় ঠেলে সেমিতে ইংল্যান্ড
ইংল্যান্ডের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করলেন হ্যারি ব্রুক। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Feb 2026, 11:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:01 PM

রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারানোর ধাক্কা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবার তিন নম্বরে নামার চ্যালেঞ্জ নিলেন হ্যারি ব্রুক। দলের কঠিন সময়ে নতুন ভূমিকাতেই তিনি মেলে ধরলেন নিজের সেরাটা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে করলেন সেঞ্চুরি। পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড।

সুপার এইটে মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের জয় ২ উইকেটে। পাল্লেকেলেতে পাকিস্তানের ১৬৪ রান পাঁচ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় ব্রুকের দল।

ইংল্যান্ডের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরিতে ১০ চার ও চার ছক্কায় ৫১ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক ব্রুক। ম্যাচ-সেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতেই।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই নিয়ে চারটি ম্যাচ খেলে সবকটি জিতল ইংল্যান্ড। এই সংস্করণে দুই দলের সবশেষ ছয় ম্যাচের সবগুলোও জিতল ইংলিশরা। 

সুপার এইটে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বর গ্রুপের শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড। দুই ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে তারা পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছিল বৃষ্টির কারণে। এক ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে দুইয়ে আছে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে হারা শ্রীলঙ্কা আছে সবার নিচে।

গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমি-ফাইনালে।

ইংল্যান্ডের রান তাড়ার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলে শূন্য রানে ফেরেন ফিল সল্ট। বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে বাজে সময় দীর্ঘায়িত করে জস বাটলার বিদায় নেন ২ রানে। একবার জীবন পেয়ে ১০ বলে ৮ রান করে ফেরেন জ্যাকব বেথেল। নিজের প্রথম তিন ওভারে এই তিন জনকেই ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি।

৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল ইংল্যান্ড। এর মাঝেই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ব্রুক। দ্বিতীয় ওভারে সালমান মির্জাকে একটি করে চার ও ছক্কা মারা ইংলিশ অধিনায়ক পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন মোহাম্মাদ নাওয়াজকে।

টম ব্যান্টনের দ্রুত বিদায়ে ইংল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৫৮। ব্রুকের ব্যাটে বাউন্ডারির ধারা অবশ্য চলতেই থাকে। পঞ্চাশ পূর্ণ করেন তিনি ২৮ বলে। 

জোর করে কোনো শট তিনি খেলেননি। মারার বল মেরেছেন, নিয়মিত সিঙ্গল নিয়ে প্রান্ত বদল করেছেন।     

পঞ্চম উইকেটে তিনি ৪৫ রানের জুটি গড়েন স্যাম কারানকে নিয়ে। ১৫ বলে ১৬ রান করে ফেরেন কারান। 

এরপরই ষষ্ঠ উইকেটে উইল জ্যাকসের সঙ্গে ইনিংস সেরা ৫২ রানের জুটিতে সমীকরণ সহজ করে ফেলেন ব্রুক। ৯০ থেকে আফ্রিদিকে পরপর ছক্কা ও চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পরের বলেই স্লোয়ারে বোল্ড হন তিনি।

তখন ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৮ বলে ১০ রান, যা শেষ দুই ওভারে দাঁড়ায় ৫ রানে। ১৯তম ওভারে জ্যাকস (২৩ বলে ২৮) ও জেমি ওভারটনের বিদায়ে নাটকীয়তার ইঙ্গিত মেলে কিছুটা। তবে শেষ ওভারে সালমান মির্জার প্রথম বলে চার মেরে সব নিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন জফ্রা আর্চার।

এই আর্চারের হাত ধরেই ম্যাচের শুরুটা ভালো করে ইংল্যান্ড। ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারে সাইম আইয়ুবকে বিদায় করেন গতিময় পেসার।

চতুর্থ ওভারে বোলিংয়ে এসে সালমান আলি আগাকে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার লিয়াম ডসন। ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।

পাকিস্তানকে টানেন মূলত সাহিবজাদা ফারহান। তৃতীয় উইকেটে বাবর আজমের সঙ্গে ৪৬ ও চতুর্থ উইকেটে ফাখার জামানের সঙ্গে ৪৯ রানের জুটি গড়েন এই ওপেনার।

স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা বাবর ২৪ বলে করেন ২৫ রান। ৩৭ বলে ফিফটি করেন সাহিবজাদা। ওভারটনকে পরপর ছক্কা ও চার মারার পরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে থামেন তিনি। সাত চার ও দুই ছক্কায় দলের সর্বোচ্চ ৬৩ রান করেন তিনি ৪৫ বলে।

১৬ বলে ২৫ রান করে ফেরেন ফাখার। ১১ বলে ২৩ রান করেন শাদাব। শেষ দিকে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি উসমান খান, নাওয়াজরা। নিজের শেষ ওভারে এই দুজনকে পরপর দুই বলে ফেরান ডসন। ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার তিনিই।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলে আগে চারটি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থেকে একবারও মাঠে নামার সুযোগ পাননি ডসন। এই বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে তিনি দারুণ বোলিং করছেন। এখন পর্যন্ত দলের ছয় ম্যাচের সবকটিতেই খেলেছেন, উইকেট নিয়েছেন ৯টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৬৪/৯ (সাহিবজাদা ৬৩, সাইম ৭, সালমান আলি ৫, বাবর ২৫, ফাখার ২৫, শাদাব ২৩, উসমান ৮, নাওয়াজ ০, আফ্রিদি ২, সালমান মির্জা ২*; আর্চার ৪-০-৩২-২, ওভারটন ৩-০-২৬-২, ডসন ৪-০-২৪-৩, কারান ৩-০-২৪-০, রাশিদ ৪-০-৩১-১, জ্যাকস ২-০-২৭-০)

ইংল্যান্ড: ১৯.১ ওভারে ১৬৬/৮ (ফিল সল্ট ০, বাটলার ২, ব্রুক ১০০, বেথেল ৮, ব্যান্টন ২, কারান ১৬, জ্যাকস ২৮, ওভারটন ০, ডসন ১*, আর্চার ৫*, আফ্রিদি ৪-০-৩০-৪, সালমান মির্জা ৩.১-০-২৬-০, সাইম ২-০-২১-০, নাওয়াজ ৩-০-২৬-২, শাদাব ৩-০-৩১-০, তারিক ৪-০-৩১-২)

ফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: হ্যারি ব্রুক