টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল: বাংলাদেশ ও কোন দলের সম্ভাবনা কতটা
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের পরাজয়ে বড় চোট লেগেছে বাংলাদেশের সম্ভাবনায়, তবে সব মিলিয়ে দারুণ জমে উঠেছে ফাইনালে ওঠার লড়াই।
বাস্তব সম্ভাবনা কতটা ছিল, তা নিয়ে তর্ক হতে পারে। তবে কিছু পারফরম্যান্স, কিছু ক্রিকেটীয় সমীকরণ ও কাগজ-কলমের হিসাব স্বপ্ন দেখাচ্ছিল বাংলাদেশকে। সরাসরি না বললেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, তাদের মনের কোণে সেই আশাটুকু আছে। কিন্তু তাতে বড় একটা চোট লেগেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের পরাজয়ে।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে বাংলাদেশের টেস্ট আকি আছে আর পাঁচটি। সবকটি জিতলেও হয়তো যথেষ্ট হবে না, থাকবে আরও সমীকরণ। তবে শান্তদের সম্ভাবনা যেমনই থাকুক, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই এখন জমে উঠেছে বেশ। ২৭টি সিরিজের মধ্যে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ চলতি সিরিজ ছাড়া বাকি আছে আর ১০টি সিরিজ।
গত দুটি চক্রে চারটি ফাইনালিস্ট দলের মধ্যে তিনটিরই যোগ্যতা অর্জনের নম্বর ৬৫ শতাংশের বেশি ছিল। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ভারত, ২০২৩ সালে ৫৮.৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়েও ফাইনালে উঠেছিল তারা। গত আসরে ফাইনালের দুই দলেরই ৬৭ শতাংশের বেশি পয়েন্ট লেগেছিল শিরোপার মঞ্চে পা রাখতে।
বর্তমান চক্রে দলগুলোর অবস্থান এবং ৬০ শতাংশ বা তার বেশি পয়েন্ট পেতে তাদের কী করতে হবে, তা এখানে তুলে ধরা হলো।
নিউ জিল্যান্ড
টেস্ট: ৬, জয়-পরাজয়-ড্র: ৪-১-১,
পয়েন্টের হার: ৭২.২২ শতাংশ
বাকি সিরিজ: ভারত (ঘরের মাঠ), অস্ট্রেলিয়া (অ্যাওয়ে), শ্রীলঙ্কা (ঘরের মাঠ), পাকিস্তান (অ্যাওয়ে)- মোট ১০ টেস্ট
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক পরাজয়ের পর এখন শীর্ষে আছে নিউ জিল্যান্ড। যদিও তা সামান্য ব্যবধানে। তবে এটাও মনে রাখা জরুরি যে, এই চক্রে ছয়টি সিরিজের মধ্যে মাত্র দুটি খেলেছে তারা। কিউইদের বাকি ১০টি টেস্টের মধ্যে চারটিই অস্ট্রেলিয়ায়, যেখানে তারা তাদের শেষ ১২টি টেস্টের ১০টিতেই হেরেছে।
প্রাপ্য ১২০ পয়েন্টের মধ্যে ৬০ শতাংশ অর্জন করতে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ৬৪ পয়েন্ট, যা তারা পাঁচটি জয় ও একটি ড্রয়ের মাধ্যমে পেতে পারে। এই জয়গুলোর মধ্যে চারটিই ঘরের মাঠে আসতে পারে, যদি তারা ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সব টেস্টে জিততে পারে।
তবে ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে, তাদের সম্ভবত শুধু ঘরের মাঠে সাফল্যই যথেষ্ট হবে না। বাকি ম্যাচগুলোর ছয়টিতে জিতলে এবং তিনটিতে হারলে তাদের পয়েন্ট হবে ৬৪.৫৮ শতাংশ। সাতটি জয় ও তিনটি পরাজয় হলে তা দাঁড়াবে ৭০.৮৩% শতাংশে।
দক্ষিণ আফ্রিকা
টেস্ট: ৭, জয়-পরাজয়-ড্র: ৫-২-০,
পয়েন্টের হার: ৭১.৪৩ শতাংশ
বাকি সিরিজ: বাংলাদেশ (ঘরের মাঠ), ইংল্যান্ড (ঘরের মাঠ), শ্রীলঙ্কা (অ্যাওয়ে)- মোট ৭ টেস্ট
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ের ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাই সম্ভবত সেরা অবস্থানে রয়েছে। ৬০ শতাংশ পয়েন্ট অর্জন করতে তাদের আরও ৪১ পয়েন্ট প্রয়োজন, যা তারা বাকি সাত টেস্টের মধ্যে তিনটি জয় ও দুটি ড্রয়ের মাধ্যমে পেতে পারে। এর দুটি জয় তারা পেতে পারে পরের সিরিজেই। ১৫ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে দুটি জয় তাদের প্রত্যাশিতই।
যদিও অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে, তাদেরকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবু দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ই সম্ভাব্য ধরে নেওয়া যায়। যদি সেখানে প্রত্যাশিত ২৪ পয়েন্ট পায় প্রোটিয়ারা, তবে ৬০ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছানোর জন্য বাকি পাঁচটি টেস্ট থেকে তাদের আর একটি জয় ও দুটি ড্র প্রয়োজন হবে। দুটি জয় ও তিনটি পরাজয় তাদের পয়েন্টকে ৬৪.২৮ শতাংশে নিয়ে যাবে। তিনটি জয় ও দুটি পরাজয়ে পয়েন্ট হবে ৭১.৪৩ শতাংশ, যা তাদের ফাইনালে ওঠা প্রায় নিশ্চিত করে দেবে।
সব মিলিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শিরোপা ধরে রাখার মঞ্চে পৌঁছে যেতে পারবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে তারা হয়তো এখনই সেই ভাবনায় বুঁদ থাকবে না। আপাতত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেই সর্বোচ্চ পয়েন্ট চোখ থাকবে তাদের।
অস্ট্রেলিয়া
টেস্ট: ১৩, জয়-পরাজয়-ড্র: ৯-৪-০
পয়েন্টের হার: ৬৯.২৩ শতাংশ
বাকি সিরিজ: নিউ জিল্যান্ড (ঘরের মাঠ), ভারত (অ্যাওয়ে)- মোট ৯ টেস্ট
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ হেরে অস্ট্রেলিয়ার ফাইনাল সম্ভাবনায় জোর ধাক্কা লেগেছে। জয় দিয়ে শুরুর পরও সিরিজটি হেরে যাওয়ায় পয়েন্ট তালিকায় এক থেকে তিনে নেমে গেছে দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়নরা।
টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ততম মৌসুম চলছে এটি। তবে ফলাফল এখনও আদর্শ নয়। সবশেষ পাঁচ টেস্টের তিনটিতেই হেরেছে তারা। যদিও পরের ৯ টেস্টে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তাদের হাতে রয়েছে। ৬০ শতাংশে পয়েন্টে পৌঁছাতে প্যাট কামিন্সের দলের প্রয়োজন আর ৫১ পয়েন্ট প্রয়োজন। চারটি জয় ও একটি ড্র দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
অস্ট্রেলিয়া চাইবে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে চার টেস্টের সবকটিই জিততে। তাসমান সাগরের অপর পাড়ের প্রতিপক্ষের সঙ্গে সবশেষ টানা আট টেস্ট জিতেছে তারা। দুই দলের সবোশষ ৩৪ টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের জয় স্রেফ একটি!
কিউইদের বিপক্ষে চার টেস্টের সবকটিতে অস্ট্রেলিয়ার জয় খুব জরুরি। কারণ, বর্তমান চক্রে তাদের শেষ সিরিজটি ভারতে। সেখানে গিয়ে সবশেষ ১৮টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতেই হেরেছে তারা, জিতেছে মাত্র দুটিতে। এবারও পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারতই থাকবে ফেভারিট।
বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে পাঁচটি জিততে পারলে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট হবে ৬৩.৬৩ শতাংশ। ছয়টি জয় ও তিনটি পরাজয় তাদের পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬৮.১৮ শতাংশে পৌঁছে দেবে, যা তাদের ফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করে দেবে।
ভারত
টেস্ট: ১১, জয়-পরাজয়-ড্র: ৫-৪-২,
পয়েন্টের হার: ৫১.৫২ শতাংশ
বাকি সিরিজ: নিউ জিল্যান্ড (অ্যাওয়ে), অস্ট্রেলিয়া (ঘরের মাঠ)- মোট ৭ টেস্ট
ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে ভারতকে এখনও অনেক কিছু করতে হবে। এমনকি যদি তারা বাকি সাতটি টেস্টের প্রত্যেকটিতে জয়লাভ করে এবং কোনো মন্থর ওভার রেটের কারণে পয়েন্ট না হারায়, তবুও তাদের পয়েন্ট হবে ৭০.৩৭ শতাংশ। ছয়টি জয় ও একটি ড্র হলে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৬.৬৭ শতাংশ, ছয়টি জয় ও একটি পরাজয় হলে পয়েন্ট হবে ৬৪.৮১% শতাংশ। সুতরাং, ভারতের ভুল করার সুযোগ খুবই কম।
তবে তাদের বাকি সব টেস্টই যেহেতু ফাইনালের থাকা দলগুলোর বিপক্ষে, তাই ভারতের জয় মানেই সেই দলগুলোর পয়েন্ট হারানো। উদাহরণস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়া যদি পাঁচটি টেস্ট এবং নিউ জিল্যান্ড ছয়টি টেস্ট জেতে (এবং বাকিগুলো হারে), তাহলেও উভয় দলই ৬৪.৮১ শতাংশের সামান্য নিচে থেকে সিরিজ শেষ করবে।
বাংলাদেশ
টেস্ট: ৭, জয়-পরাজয়-ড্র: ৩-৩-১,
পয়েন্টের হার: ৪৭.৬২ শতাংশ
বাকি সিরিজ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ঘরের মাঠ), দক্ষিণ আফ্রিকা (অ্যাওয়ে), ইংল্যান্ড (ঘরের মাঠ)- মোট ৫ টেস্ট
চলতি সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পরাজয় বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরের সিরিজটি দক্ষিণ আফ্রিকায়, যেখানে বাংলাদেশ সব সফরে সব টেস্ট হেরেছে এবং এবারও জয়ের আশা সামান্যই।
নাজমুল হোসেন শান্তর দল যদি এমনকি বাকি পাঁচটি টেস্টের প্রত্যেকটিতেও জিতে যায়, তবুও তারা সর্বোচ্চ ৬৯.৪৪ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে সিরিজ শেষ করতে পারবে। যদি তারা এই ম্যাচগুলোর মধ্যে একটিতে হেরে যায়, তবে তাদের পয়েন্ট কমে ৬১.১১ শতাংশে নেমে আসবে। তখন তাদেরকে নির্ভর করতে হবে অন্যদের ফলাফলের ওপর।
ইংল্যান্ড
টেস্ট: ১৬, জয়-পরাজয়-ড্র: ৭-৮-১
পয়েন্টের হার: ৩৮.৫৪ শতাংশ
বাকি সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা (অ্যাওয়ে), বাংলাদেশ (অ্যাওয়ে)- মোট ৫ টেস্ট
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তিন চক্রের প্রতিটিরই ফাইনাল হয়েছে ইংল্যান্ডে, কিন্তু একবারও ফাইনালে খেলতে পারেনি ইংলিশরা এবং এবারও সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
যদিও তারা সবশেষ টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে, তার পরও ইংল্যান্ডের আশাবাদী হওয়ার জায়গা তেমন একটা নেই। এমনকি যদি তারা বাকি পাঁচটি টেস্টেই জয়লাভ করে এবং আর কোনো পেনাল্টি পয়েন্ট না হারায়, তাহলেও তারা মাত্র ৫৩.১৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করবে।
সামনের দুটি সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বাংলাদেশে সিরিজ জিততে পারলে পরের চক্রের জন্য মোমেন্টাম পেতে পারে তারা। সেই চক্রের শুরুটাও হবে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিয়ে, ঘরের মাঠে লড়বে তা অ্যাশেজে।
শ্রীলঙ্কা
টেস্ট: ৬, জয়-পরাজয়-ড্র: ১-২-৩
পয়েন্ট: ৩৩.৩৩ শতাংশ
বাকি সিরিজ: পাকিস্তান (অ্যাওয়ে), নিউ জিল্যান্ড (অ্যাওয়ে), দক্ষিণ আফ্রিকা (হোম)- মোট ৬ টেস্ট
প্রথম তিনটি সিরিজ থেকে মাত্র ৩৩.৩ শতাংশ পয়েন্ট পাওয়ায় শ্রীলঙ্কার পরের কাজও অনেক কঠিন। বাকি তিন সিরিজের দুটিই দেশের বাইরে।
লঙ্কানরা যদি তাদের বাকি ছয়টি টেস্টের প্রতিটিতেও জয়লাভ করে, তাহলেও তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬৬.৬৭ শতাংশ। যদি তারা একটিতে হেরে যায়, তবে তা কমে ৫৮.৩৩% শতাংশে নেমে আসবে। তাদের চাওয়া থাকবে মূলত পয়েন্ট তালিকায় যত ওপরে থেকে শেষ করা যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট: ১৩, জয়-পরাজয়-ড্র: ৩-৮-২
পয়েন্টের হার: ২৬.৯২ শতাংশ
বাকি সিরিজ: বাংলাদেশ (অ্যাওয়ে)- মোট ১ টেস্ট
সবার আগে বর্তমান চক্রের অভিযান শেষ করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট টেস্টই এই চক্রে তাদের শেষ ম্যাচ। অথচ ফাইনালের বাকি আছে সাত মাসের বেশি। নিউ জিল্যান্ডের বাকি আছে আরও চারটি সিরিজ। আইসিসি চ্যাম্পিয়নশিপের একপেশে ও অদ্ভুত সময়সূচির একটি সুস্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠছে এতে।
ফাইনালের লড়াইয়ে অবশ্য ক্যারিবিয়ানরা কখনোই ছিল না। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে কোচ ড্যারেন স্যামি বলেছেন, এই দুটি টেস্ট জিতে পয়েন্ট তালিকায় কিছুটা ওপরে থেকে চক্র শেষ করতে চান তারা।
পাকিস্তান
টেস্ট: ৯, জয়-পরাজয়-ড্র: ২-৭-০,
পয়েন্টের হার: ৪.৬৩ শতাংশ
বাকি সিরিজ: শ্রীলঙ্কা (ঘরের মাঠ), নিউ জিল্যান্ড (ঘরের মাঠ)- মোট ৪ টেস্ট
ম্যাচের সংখ্যার চেয়ে শতকরা পয়েন্টের পরিমাণ অর্ধেক- এটিই বলে দেয় পাকিস্তানের পারফরম্যান্স কতটা শোচনীয় ছিল এবার। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম চক্রে তারা ষষ্ঠ হয়েছিল, পরেরবার সপ্তম। গতবার শেষ করেছে নবম স্থানে থেকে, এবারও পড়ে আছে তলানি।
এই চক্রে তাদের শেষ দুটি সিরিজ ঘরের মাঠে। শেষটা ভালোভাবে করে পয়েন্ট তালিকায় একটু ভালো অবস্থানে থেকে শেষ করতে পারে তারা।
