২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

অপ্রতিরোধ্য কামিন্দুর আরেকটি সেঞ্চুরিতে তিনশ ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কা

সাত টেস্টে খেলে চার সেঞ্চুরি চার ফিফটি হয়ে গেল লঙ্কান এই ব্যাটসম্যানের, ব্যাটিং গড় ৮০.৯০।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Sep 2024, 07:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:29 AM

ইংল্যান্ড সফরের ছন্দ ঘরের মাঠেও টেনে আনলেন কামিন্দু মেন্ডিস। স্বপ্নের মতো টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতে উপহার দিলেন আরেকটি সেঞ্চুরি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আলো ছড়ানো ব্যাটসম্যান আরেকবার দাঁড়ালেন দলের ত্রাতা হয়ে। তার চমৎকার ইনিংসের সৌজন্যে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দিনে তিনশ ছাড়াল শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ। 

গলে সিরিজের প্রথম টেস্টে বুধবার ৭ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা।

দিনের শুরুতে নিয়মিত বিরতিতে যখন উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা, তখন দলের হাল ধরেন কামিন্দু। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের পর কুসাল মেন্ডিসের সঙ্গে জুটি গড়ে লঙ্কানদের কক্ষপথে রাখেন তিনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ১১ চারে খেলেন ১১৪ রানের ইনিংস।

টেস্ট ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১১ ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরি করলেন কামিন্দু। সঙ্গে ফিফটিও আছে তার চারটি। প্রথম ১১ ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরি নেই শ্রীলঙ্কার আর কোনো ব্যাটসম্যানের। টেস্টে তার রান এখন ৮০৯। এত দ্রুত আটশ রানও করতে পারেননি দেশটির আর কেউ।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেকে ফিফটি করে টেস্টের আঙিনায় পথচলা শুরু কামিন্দুর। এরপর বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে করেন জোড়া সেঞ্চুরি, চট্টগ্রামে খেলেন অপরাজিত ৯২ রানের ইনিংস। ইংল্যান্ড সফরে তিন টেস্টে পাঁচ ইনিংসে একটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি আসে তার ব্যাট থেকে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা এদিন চতুর্থ ওভারে হারায় দিমুথ কারুনারাত্নেকে। পেসার উইল ও’রোকের বাড়তি বাউন্সে অভিজ্ঞ ওপেনার ধরা পড়েন কিপারের গ্লাভসে। টানা তিন ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারলেন না তিনি।

নিজের পরের ওভারেই পাথুম নিসাঙ্কাকে দারুণ এক ইয়র্কারে বোল্ড করে দেন ও’রোক। চোখধাঁধানো সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডে লঙ্কানদের স্মরণীয় জয়ের নায়ক নিসাঙ্কা এবার ফেরেন পাঁচটি চারে ২৫ বলে ২৭ রান করে।

শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে পথে ফেরানোর চেষ্টা চালান দিনেশ চান্দিমাল ও ম্যাথিউস। ও’রোকের বাউন্সারে আঙুলে ব্যথা পেয়ে ম্যাথিউস আহত অবসর হয়ে মাঠ ছাড়লে ক্রিজে যান কামিন্দু। ২ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে প্রথম সেশন পার করে শ্রীলঙ্কা।

বিরতির পর প্রথম ওভারেই টিম সাউদির বলে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন চান্দিমাল (৩ চারে ৩০)। গ্লেন ফিলিপসের স্পিনে বোল্ড হয়ে দ্রুত ফেরেন অধিনায়ক ধানাঞ্জায়া ডি সিলভাও।

দ্রুত উইকেট হারানো দলের হাল ধরতে ফের ব্যাটিংয়ে নামেন ম্যাথিউস। কামিন্দুকে নিয়ে বাড়াতে থাকেন দলের রান। জমে ওঠে তাদের জুটি। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৭৩ বলে ফিফটি করেন কামিন্দু। কিন্তু পঞ্চাশ ছোঁয়ার আগে ফিরে যান ম্যাথিউস (৩ চারে ৩৬), ভাঙে ৭২ রানের যুগলবন্দী।

দ্বিতীয় সেশনে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা, বিরতিতে যায় ৫ উইকেটে ১৭৮ রান নিয়ে। এরপর দলকে টেনে নেন কামিন্দু ও কুসাল মেন্ডিস। জুটিতে দুই ব‍্যাটসম‍্যানই সমান গতিতে বাড়াতে থাকেন রান।

ছন্দে থাকা কামিন্দু সেঞ্চুরিতে চোখ রেখে এগিয়ে নিতে থাকেন নিজের ইনিংস। রাচিন রাভিন্দ্রার ফুলটসে চার মেরে ১৪৫ বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। কয়েক ওভার পর ফিফটি তুলে নেন মেন্ডিসও, ৬৭ বলে।

একটা সময় মনে হচ্ছিল এই দুইজনের ব্যাটেই দিনের খেলা শেষ করতে পারবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু অপরাজিত থাকতে পারেননি কেউই। ৭ চারে ঠিক ৫০ রান করেই বিদায় নেন মেন্ডিস। ভাঙে ১৩৭ বল স্থায়ী ১০৩ রানের জুটি।

দিনের একেবারে শেষ দিকে ড্রেসিং রুমে ফেরেন কামিন্দু। এজাজ প্যাটেলের টার্ন করে ভেতরে ঢোকা বল জায়গা বানিয়ে খেলতে চান তিনি। অতিরিক্ত টার্ন করায় খেলতে পারেননি ব্যাটে, গ্লাভসে লেগে উঠে যায় উপরে, সহজ ক্যাচ নেন ড্যারিল মিচেল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৮৮ ওভারে ৩০২/৭ (নিসাঙ্কা ২৭, কারুনারাত্নে ২, চান্দিমাল ৩০, ম্যাথিউস ৩৬, কামিন্দু ১১৪, ধানাঞ্জায়া ১১, মেন্ডিস ৫০, রামেশ ১৪*, প্রাবাথ ০*; সাউদি ১৪-২-৪৮-১, ও’রোক ১৭-৪-৫৪-৩, এজাজ ১৮-৩-৫৮-১, স্যান্টনার ১৯-২-৬৪-০, ফিলিপস ১৮-০-৫২-২, রাভিন্দ্রা ২-০-১২-০)